Wednesday, July 22, 2020

বহির্বঙ্গ ও বাংলা সাহিত্য: গবেষণাধর্মী সংকলন গ্রন্থ প্রকাশনা

বহির্বঙ্গ ও বাংলা সাহিত্য

এই বিষয়ে ISBN নম্বর সহ একটি গবেষণাধর্মী সংকলন গ্রন্থ প্রকাশনা কার্যে ব্রতী হয়েছি।

      একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় বাংলা সাহিত্যের বিরাট অংশজুড়ে আছে বিহার; প্রেক্ষাপটহিসেবে এসেছে বিহার, ঝাড়খন্ড। বাংলা সাহিত্যের চর্চা হয় ত্রিপুরা ও অসমের বরাক উপত্যকা এবং ব্রহ্মপুত্র উপত্যাকায়। আন্দামান, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশেও। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বাঙালির বাংলা সাহিত্য চর্চা এবং বাংলা সাহিত্যে যেভাবে বহির্বঙ্গ প্রেক্ষাপট  হিসেবে এসেছে এবং  চিন্তা চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখে আমাদের একটি গবেষণাধর্মীগ্রন্থ সংকলনের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।

     সম্পাদক

প্রফেসর বিকাশ পাল, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় ( বিভাগীয় প্রধান)

তিলক মন্ডল,  নীলকমল বাগুই

         তাই এই বিষয়ে আপনাদের কাছে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ আহ্বান করা হচ্ছে।

লেখা পাঠানোর জন্য নিম্নের নিয়মাবলী অনুসরণ করুন --

১. প্রবন্ধের শব্দ সংখ্যা ২৫০০ থেকে ৩০০০  শব্দের মধ্যে। প্রবন্ধটি মৌলিক হ‌ওয়া বাঞ্ছনীয়। লেখাটি যেন Plagiarism দোষে দুষ্ট না হয়।

২. উদ্ধৃতি ব্যবহার করার সময়  এমএলএ নিয়ম মেনে তথ্যসূত্র পরিবেশন করবেন।

৩. লেখা টাইপ করে পাঠাবেন অভ্র কীবোর্ড এ, Doc এবং pdf উভয় ফাইলে লেখা পাঠাবেন।

৪. প্রাবন্ধিকগণ নাম, ফোন নম্বর, ইমেইল সহ তাদের পরিচয় উল্লেখ করবেন।

৫. কোন বিষয়ের উপর প্রবন্ধ লিখছেন তা আমাদের আগে থেকে জানিয়ে  দেবেন। প্রবন্ধের বিষয় যাতে একই না হয় সেই কারণে নিজের বিষয় আগে থেকে জানাবেন।

৬. একই বিষয়ের উপর একাধিক লেখা না থাকাই শ্রেয়।

৭. প্রবন্ধ নির্বাচিত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

৮. ৩০ নভেম্বর ২০২০ মধ্যে লেখা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

৮. প্রবন্ধ পাঠাবেন –

nilkamalbagui23@gmail.com, tilokmondal2014@gmail.com  

প্রয়োজনে কথা বলুন :- তিলক মন্ডল- 7003298145, নীলকমল বাগুই - 8910474691


Sunday, July 19, 2020

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী : ১৮ই জুলাই



কাদম্বিনী গাঙ্গুলী : ১৮ই জুলাই
ভারতে প্রথম বাঙালি মহিলা ডাক্তার
জন্মদিনে তাঁকে বিহার বাঙালি সমিতির পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।

সংকলন - শ্রী গৌরব দাস, পূর্ণিয়া শাখা

ডা০ বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)



ডা০ বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) এর জন্মদিন ৩ শ্রাবণ ১৯ জুলাই 
বিহার বাঙালি সমিতির পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।

সংকলন - শ্রী গৌরব দাস, পূর্ণিয়া শাখা

নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়



নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'এর জন্মদিন ৩ শ্রাবণ ১৯জুলাই 
বিহার বাঙালি সমিতির পক্ষ থেকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই।

সংকলন - শ্রী গৌরব দাস, পূর্ণিয়া শাখা

Saturday, July 18, 2020

প্রৈতি

প্রৈতি

শিল্প - সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা

লক ডাউনের মধ্যেই প্রৈতি শিল্প- সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকার চতুর্থ বর্ষের চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হল। ৪৪ পৃষ্ঠার পত্রিকার সম্পাদক ড. গৌতম মুখোপাধ্যায় ডোরান্ডা কলেজ রাঁচির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। পত্রিকায় ৪১টি কবিতা, কমলেশ রায় বিশিষ্ঠ সাংবাদিকের দ্রৌপদী নামক অনুগল্প, আইভি চট্টোপাধ্যায় এর সিন্ধু ও দিলীপ কুমার মিস্ত্রীর সম্পর্ক গল্প দুইটি পত্রিকার মান উন্নিত করেছে। অর্চনা মুখোপাধ্যায় চক্রবর্তীর বাংলা ভাষার অবক্ষয় রোধে অভিভাবকদের ভূমিকা লেখাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র ছাত্রীদের অনীহার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সম্পাদক গৌতম বাবুর ঝাড়খণ্ডের লোক সাহিত্যে মাছ, রাজকুমার সরকারের বোধোদয় অনুগল্প ও ডা. গণেশ প্রাসাদ বসু মল্লিকের বাংলা পল্লী সাহিত্যে কবি বন্দে মিঞা প্রবন্ধ উচ্চ মানের। বাংলা একাডেমি ঝাড়খণ্ডের সম্পাদক মৃগেন বিশ্বাস এর বাংলার নব জাগরণের প্রতীক ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর ও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি ঝাড়খণ্ডের সম্পাদক গৌতম চট্টোপাধ্যায় এর টুকরো টুকরো ভাষা আন্দোলন প্রবন্ধ এখানকার ভাষা সংস্কৃতির বর্তমান ও অতীত কে তুলে ধরেছে। পুরুলিয়ার বিশিষ্ঠ লেখক অমিয় কুমার সেনগুপ্তের মানভূমের কাশীপুর পঞ্চকোট রাজ্য ও মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবন্ধ টি সংগ্রহ করে রাখার মত। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পুরুলিয়ার রাজবাড়ীর কর্ম জীবন কে তুলে ধরেছেন। পত্রিকাটি সরাসরি সম্পাদকের ডোরান্ডা কলেজের ঠিকানা থেকে অথবা শাখা দপ্তর মোকো ধানবাদ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে ৯৭৭১৮১৩২৯৩ এ যোগাযোগ করতে পারেন। শাখা দপ্তরের রাজকুমার সরকারের সঙ্গে ৮৩৪০৫৪৫৪৬৪ এ পত্রিকার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রতিবেদক – গৌতম চট্টোপাধ্যায়


Friday, July 17, 2020

বৃন্দাবন মণ্ডলের গল্প - বিদ্যাসাগরের অবদান

অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র কালীচরণ। ক্লাসের লাস্ট বয়। বন্ধুরা বলে কেলে। নামের সঙ্গে চেহারার মিল আছে। কালো কুচকুচে লম্বা সিড়িঙ্গে। হতদরিদ্র গরিব ছেলেটি বন্ধুবান্ধব এমনকি মাস্টারমশাইদেরও করুনার পাত্র। পড়াশোনায় অষ্টরম্ভা। তবে পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা সরস্বতী পূজা বা গাছ লাগানোয় উৎসাহ যথেষ্ট।     
আজ স্কুলে অনুষ্ঠান। ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মদিন। কালীচরণ অতসব বোঝে না, বোঝার চেষ্টাও করে না। তার নিরেট মাথাটাই কিছুই ঢুকতে চায়না। স্কুলের বড় হলঘরটায় একটা ছবি ফুল দিয়ে সাজানো। এই লোকটাই নাকি বিদ্যাসাগর। মনে পড়ে গেলো।  ছবিটা ছিল সেই ছোটবেলার বর্ণপরিচয় বই এর সামনে।      
স্কুলের ছেলেমেয়েরা গান গাইল। মাস্টারমশাইরা এবং হেডমাস্টারমশাই বিদ্যাসাগর নিয়ে অনেক কথা বললেন। কালীচরণ শুনতে শুনতে কেমন আনমনা হয়ে গেল। গরিবের ছেলে ঈশ্বরচন্দ্রের জীবনের কথাগুলো ও আজ বেশ বুঝতে পারছিল। কোথাও কোনো জটিলতা নেই, সব জলের মত পরিষ্কার। শুনতে শুনতে ওর মনের ভেতরটা কেমন যেন হু হু করে উঠল। ওই গরিব ছেলেটাই নাকি বড় হয়ে বহু গরিব দুঃখী মানুষদের সাহায্য করেছেন, তাদের সেবা করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে হেডমাস্টারের নজরে পড়লো কালীচরণের এর উপর। জিজ্ঞাসা করলেন, কিরে কালীচরণ কিছু বুঝযে পারলি?  কালীচরণ সচরাচর মুখ তুলে কথা বলে না। আজও দাঁড়িয়ে রইল মুখ গোঁজ করে।  হেড মাস্টার মশাই বললেন যা। তোকে  জিজ্ঞাসা করাই বৃথা!  পরদিন সারা স্কুলে একটা খবর রটে গেল। কালীচরণ নাকি সবুজসাথীর সাইকেলটা সামাই সোরেনকে দিয়ে দিয়েছে। সামাই আর বাবুলাল দুই ভাই। একসাথে স্কুলে আসে। বাবুলালের একটা পায়ে জোর কম। হেঁটে হেঁটে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। গতকাল অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় কালীচরণ সময়কে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমার সাইকেলটা নিবি? তোর ভাইয়ের সুবিধা হবে।
সামাই বলেছিল, খুব ভালো হয়। সাইকেলটা দিতে পেরে কালীচারণের খুব আনন্দ হয়েছিল।    পরদিন স্কুলে কালীচরণকে নিয়ে হইচই পড়ে গেল। কালীচরণ লজ্জায় সংকুচিত। বিদ্যাসাগর সারাজীবনে এত কাজ করেছেন। আর সে তো মোটে একটা।   হেড মাস্টার মশাই কালীচরণ কে ডেকে পিঠে হাত দিয়ে বললেন, আমি বুঝতেই পারিনি কাল আমাদের বড় বড় কথা গুলো তুই সবচেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছিস।

বৃন্দাবন মন্ডলের গল্প - বিদ্যাসাগর এবং বিদ্যাসাগর

তিনি আছেন। তিনি আছেন বহুদিন ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র আলো করে। শীত গ্রীষ্ম ঝড় জল অভাব-অনটন তাকে টলাতে পারেনি। হয়তো একটু ক্ষয়ে গেছে মূর্তিটা, হয়তো ঠিক চেনা  যায় না। তবু শহরের মানুষ জানে তিনি আছেন। স্কুলে কলেজে কোর্টকাছারিতে যাবার সময় ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষ একবার চেয়ে দেখে, হ্যাঁ, তিনি আছেন। বিশেষ বিশেষ দিনে মানুষ এসে জড়ো হয়। নিজেকে যাচাই করে, পরিশুদ্ধ করে নেয় তার সামনে দাঁড়িয়ে। আসলে মূর্তিটা আর মূর্তি নেই,  মূর্তি  ছাড়িয়ে মানুষটা মিশে গেছেন শহরের আকাশে বাতাসে মাটিতে। ছোট ছোট অসংখ্য প্রতিরূপ যেন খোদাই হয়ে আছে মানুষের অন্তরে অন্তরে। তিনি বিদ্যাসাগর! সেই উনবিংশ শতাব্দীর প্রাক্কালে যার বর্ণপরিচয় হাতে নিয়ে বাঙালির বর্ণ পরিচয়। বাঙালীর বাঙ্গালীয়ানা, নবজাগরণের আলোকে পরিস্নান, উদারবাদের দীক্ষা,  গ্রহণশীলতা ও আন্তর্জাতিকতায় স্থিতি। সে বাঙালি আসলে বিশেষ কোনো মানুষের গোষ্ঠী মাত্র নয়; বাঙালিত্ব একটি ধারণা। এই সমস্ত  কিছুর প্রতীক হয়ে তিনি বিরাজ করছেন শহরের মাঝে।  কর্মযোগী  মানুষটি আজও অক্লান্ত। রোজ বিকেলে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়লে খর্বাকৃতি মানুষটির ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। সেখানে এসে আশ্রয় নেয় পাশের বস্তির কয়েকটি ছোট ছোট ছেলে মেয়ে। সমাজের দূরতম প্রান্তে আজও  শিক্ষার আলো পৌঁছে নি! বিদ্যাসাগর পাঠদান করে চলেন, অ আ ক খ। ঐক্য বাক্য মানিক্য। শিক্ষার আলোয় চকচক করে ওঠে শতাব্দী প্রাচীন ম্লান মুখগুলি।
      দিনমনি সূর্যের আবর্তনের ছন্দে দিন যায় বছর ঘোরে। একদিন বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে সবচেয়ে বড় জাতীয় উৎসব উপস্থিত হয়। লোকসভা নির্বাচন। দিন বদলেছে, সেদিনের সেইসব নিয়ম কানুন রীতিনীতির পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তন  জীবনের ধর্ম। এমনি একদিন ভোটের প্রচারে দুটি দল নেমে পড়ে শহরের অলিতে গলিতে। এখন গণতন্ত্রের প্রতীক হলো চেয়ার। অতএব যেন তেন প্রকারেন চেয়ার চায়। একদল বলল, এ শহর আমাদের। অন্য দল বলল, এ দেশ জনগণের। বচসা থেকে কথা কাটাকাটি, চুলোচুলি হাতাহাতি এবং শেষে লাঠি তলোয়ার বন্দুক। যারা এসব করছিল তারা কেমন যেন অচেনা ! হয়তো এই শহরেরই মানুষ, হয়তো বাংলা ভাষাতেই কথা বলে। অথচ হাবভাব আচার আচরণে সে বাংলা কোথায়? মানুষ দ্বিধান্বিত। মূর্তিকে জিজ্ঞাসা করলো, বিদ্যাসাগর, এরা কারা? শুনে ওদের ছোখ মুখ বদলে গেল। আরে, এই বুড়ো কি তাহলে নির্দল থেকে দাঁড়িয়েছে? এ তো ভোট কাটবে! এই জন্যই মূর্তিটা নিয়ে শহরের মাতামাতি। অতএব ওটাকে ভেঙে ফেল। মুখ বাধা উদ্যত লাঠি তলোয়ার  রে রে করে লাফিয়ে পড়ল মূর্তিটার উপর। দমাদম কয়েকটি আঘাত দিতেই  পুরনো মূর্তিটা গড়িয়ে পড়ল মাটিতে। তারপর শহর জুড়ে তাণ্ডবলীলা। কিন্তু দায় স্বীকার করল না কেউ। চলল পরস্পরকে দোষারোপ আর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের প্রতিযোগিতা। মানুষগুলোর ভোট চাই তো।  মিটিং হল সভা হল; পদযাত্রা হল। একদল বলল, আমরা অষ্টধাতু দিয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বানিয়ে দেব, বৈদিক মন্ত্রে  প্রাণ প্রতিষ্ঠা করব। আরেক দল বললো,  আমরা কষ্টি পাথরের মূর্তি বানাবো যে মূর্তি কেবল দেবতারই হয়। আশ্চর্য! এত সব ঘটল অথচ শিক্ষিত সভ্য সমাজ সর্বশক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তুললো না যেমনটা আগে হয়েছে বহুবার। আসলে সময় কোথায়? ছেলের জয়েন্ট, মেয়ের নাচ; এক সপ্তাহ বাদেই সিমলার টিকিট কাটা আছে। অবশ্য দু চারজন যারা কালো পতাকা হাতে পথে নেমেছিল শুরুতেই তাদের গলা চেপে ধরা হলো। ভোট উৎসব শেষ। নানান কৌশল অবলম্বনে এক দল জিতল, সংখ্যাতত্বের হিসেবে মেজরিটি। আর কে না জানে, জো জিতা ওহি সিকান্দার। অতএব তারাই মূর্তি নির্মাণের বাহুবলি। মহাসমারোহে মূর্তি নির্মাণ শুরু হল। সাড়ে চার ফুট মূর্তির জন্য সাড়ে চার হাজার গাড়ি ঘোড়া ছুটল; ছোট বড় অফিসার আমলা মন্ত্রী উঠে পড়ে লেগে পড়লো মূর্তি উৎসব পালন করতে।     
এখন কাঁচের ঘরে নিয়নের আলোয় সব সময় ঝকমক করতে থাকে মূর্তিটা। চারপাশ ঘিরে সুদৃশ্য উদ্যান। খবর ছোটে দিকে দিকে, ধন্য ধন্য পড়ে যায়। বিশেষজ্ঞ দল নিযুক্ত হয়, নুতন করে লেখা হয় বিদ্যাসাগরের জীবনী ও অবদান। দেশ বিদেশে থেকে প্রতিনিধি আসে এই মহান ঐতিহ্যের নিদর্শন দেখতে। সরকারের মুকুটে শোভা পায় আন্তর্জাতিক সোনালী পালক।   বিদ্যাসাগর পরব  শেষ হলে জায়গাটা শান্ত হয়। একদিন ধীর পায়ে হেঁটে আসে  বস্তির সেই ছেলে মেয়ে গুলি। ছায়াটা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বিজলি আলোয় ছায়া পড়ে না। ছেলেগুলি সে সব অগ্রাহ্য করে মূর্তির সামনে এসে দাঁড়ায়।
----- বিদ্যাসাগর, আমাদের লেখাপড়া শেখাবে না?  মূর্তিটা চোখ খোলে। তারপর বলে ওঠে, তোমরা কে? তোমাদের তো চিনি না।


কাটিহার থেকে মীরার গল্প - ডোরেমন


(১)
আজ আমার রিক দাদাভাইয়ের বিয়ে। সারাবাড়িটা যেন আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠেছে। সবাই আজ কত খুশি! নতুন বৌমণি ঘরে আসবে বলে কথা। আমার দাদাভাইটাকেও বরের বেশে দিব্যি কোনও রাজকুমারের মতন দেখতে লাগছে। অবশ্য আমি এই বিয়ের অংশ নই বললেই চলে। সবার মাঝে আমি যেন বড্ড বেমানান আমার এই অন্ধকার মুখ নিয়ে। ওই যে দাদাভাইয়ের খাটের পাশটা, ওইটাই আমার সব থেকে প্রিয় জায়গা। কিন্তু আমি জানি, আর কদিন পর ওখানেও আমার আর কোনও অধিকার থাকবে না। যার ঘরটাই কোনদিন নিজের ছিল না, তার আবার অধিকার কিসের!

(২)
আমি যখন প্রথম এবাড়িতে আসি, তখন দাদাভাইয়ের পনেরো-ষোলো বছর বয়স। আর আমি! তখন আমি দুমাসের ফুটফুটে শিশু। আমার দুধসাদা রং আর লেজে ও উপর কালোর ঈষত রেখা দেখে দাদাভাই বলেছিল, "হাউ কিউট, আমি এই কিটেনটাকে আমার কাছেই রাখব। ও আমার বন্ধু হবে। " মামণি অবশ্য প্রথম কমাস আমায় বিশেষ সুনজরে দেখেননি। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনিও আমায় ভালবাসতে শুরু করেন। বাড়ির সবার আদরের ছিলাম আমি, বাড়ির আরেক ছেলে। দাদাভাই আদর করে আমার নাম রেখেছিল 'ডোরাম'। ভাবছেন এই অদ্ভুত নাম রাখার কারণ কি? আরে ওই যে, টিভিতে 'ডোরেমন' নামক যে বিড়ালটিকে আপনারা সর্বদাই দেখতে পান, সে ছিল আমার দাদাভাইয়ের অত্যন্ত প্রিয়। তার নামের সাথেই মিলিয়ে রাখা হয়েছিল আমার নামটা। সবসময় দাদাভাইয়ের পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়ানোটাই ছিল আমার কাজ। আর দাদাভাইও সময়ে অসময়ে আমায় কোলে তুলে আদর করতে কার্পণ্য বোধ করত না। সময়ের সাথে সাথে আমরা দুজনেই বড়ো হয়ে উঠি। এখন দাদাভাইয়ের নিজস্ব একটা জগত তৈরী হয়েছে। ওর বন্ধুবান্ধব, হইহুল্লোড়ের মাঝখানে আমার জায়গাটা ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। এখন দাদাভাই আর আগের মতন আমার সাথে খেলা করেনা। প্রাণ খুলে হাসি গল্প করেনা। হয়তো মাঝেসাঝে এক আধবার কোলে তুলে শুকনো আদর করে। ব্যস, ওইটুকুই। আমিও আজকাল ওর ঘরে মনমরা হয়ে বসে থাকি। ওর জীবন থেকে যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম আমি। এরপর, ওর জীবনে এল বৈশালী দি, ওর প্রেমিকা। ব্যস, এতদিন যেটুকু ভালোবাসা মনোযোগও আমায় দিত দাদাভাই, সেটুকুও এবার বৈশালীদির ভাগে চলে গেল। এরপর, ওর জীবনে আমার গুরুত্বও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গেল।

(৩)
শুনেছিলাম, আমার  নতুন বৌমণি, বৈশালী দি নাকি পশুপাখি বিশেষ পছন্দ করেনা। অতএব, প্রেমিকার  মন রাখতে দাদাভাই পত্রপাঠ আমাকে ঘর থেকে বিদায় করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, এতদিনের পুরোনো আবাস, তার স্মৃতি ছেড়ে কি এত সহজে যাওয়া যায়? আমিও যেতে চাইনি কিন্তু ওরা আমায় বাধ্য করেছে। আমায় ব্যাগে ভরে দূরের ওই জঙ্গলটায় ছেড়ে আসার কথা আলোচনা করেছিল 'পরিবার'। কিন্তু, ওরা ছেড়ে আসার আগে আমিই এই বাড়ি থেকে চিরতরে চলে যাব। বৃদ্ধ হয়েছি আমি এখন। আর কটা দিনই বা বাঁচব! তবে, শেষ বয়সে স্বজন হারানোর যন্ত্রণাও যে আমায় ভোগ করতে হবে, তা আমি সত্যিই ভাবতে পারিনি। আমার বড় হয়ে ওঠার পিছনে, আমায় একটা সুস্থ জীবন দেবার পিছনে ওদের অবদান আমি কখনওই অস্বীকার করতে পারব না। কিন্তু তাও এসব দেখে আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যে মানুষ কি সত্যিই এতটা স্বার্থপর হতে পারে? জানেন, ছোটবেলায় দাদাভাই সবসময় আমায় বলত, "ডোরাম, ওই যে টিভিতে নোবিতা আর ডোরেমনকে দেখছিস, ওদের থেকেও গভীর আমাদের বন্ধুত্ব। তুই-ই আমার ডোরেমন। আমার জীবনে আর যেই আসুক না কেন, তোর আর আমার বন্ধুত্বের মাঝে কোনওদিনও ছেদ পড়বে না দেখিস।" সত্যিই কি তুমি তোমার কথা রাখতে পেরেছ দাদাভাই? তোমার ভালোবাসাও কি আর সবাইয়ের মতনই সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছিল? জীবনে নতুনের আগমনের সাথে সাথে তুমি পুরোনো বন্ধুত্বকে গা ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিতে পারলে? নোবিতার জীবনেও তো প্রেমিকা এসেছিল, কিন্তু তাই বলে সে তার পুরোনো বন্ধুকে তো ভুলে যায়নি। যদি আমায় ভালোই না বেসেছিলে, তবে কেনই বা আমাকে তোমার চিরসাথী বানানোর মিথ্যা প্রতিজ্ঞা করেছিলে? উত্তর আছে কি?

ঝাড়খন্ড বাঙালি সমিতি: দেওঘর শাখার সামাজিক কর্মসূচি

ঝাড়খন্ড বাঙালি সমিতি
দেওঘর শাখার সামাজিক কর্মসূচি


Add caption





শ্রী বিকাশ মিত্র এই ছবিগুলি পাঠিয়েছেন।






Thursday, July 16, 2020

বিহার বাঙালি সমিতি: ৪৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা

৪৪তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলা

বিহার বাঙালি সমিতির স্টল: 507

প্রতিবেদন / তন্ময় বীর

     এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় বিহার বাঙালি সমিতির অংশগ্রহণ নানান দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিতভাবে বহু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে উপস্থিত হওয়ার সুগভীর তাৎপর্য আছে।


     
...শুধু বাংলা ভাষা নয় অন্যান্য অনেক ভাষাই আন্তর্জাতিক ও জাতীয় চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় তাদের গুরুত্ব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ব্যবহারিক জীবনে, অর্থনৈতিক দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে পড়তে সর্বনাশের কিনারে উপনীত। বাইরের আঘাত যখন তীব্রতর হয় তখন ঘরের ঐক্য দৃঢ় না হলে সমূহ সর্বনাশ। ভারতের ভাষাগুলির ক্ষেত্রে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে হলেও, বিষয়টি সত্য হয়ে উঠছে। নানান রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অংকে সংকীর্ণ ভাষাজাতীয়তাবাদের সুচতুর উপস্থাপনে প্রতিবেশী ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে অনৈক্যর বীজ ব্যপ্ত হচ্ছে ...... বিহার বাঙালি সমিতির সভাপতি ডাক্তার দিলীপকুমার সিনহার সঙ্গে ভাগলপুরের একটি হোটেলের ঘরে এরকম ঘরোয়া আলোচনা চলছিল -



উপস্থিত ছিলেন শ্রীনীতীশ বিশ্বাস, শ্রীতপন সেনগুপ্ত (দিল্লি), শ্রীপ্রদীপ গাঙ্গুলি(দিল্লি), শ্রীবিদ্যুৎ পাল ও শ্রীসুনির্মল দাস। এরকম ঘোরতর সংকটের আলোচনা আরো নানান ক্ষেত্রে, নানান সময় হয়েছে। ‘কিছু করতে হবে’ - এরকম বুদবুদও মনে জেগেছে; কিন্তু সভাসমিতি থেকে ফিরে রুটি-রোজগারের তাড়নায় এবং ‘আর কী হবে!’ এরকম একটা মধ্যবিত্ত আলস্যের বিজৃম্ভণে সব ভুলে যাই। সেদিন আমরা ভেবেছিলাম অনেক আরও অনেক করণীয় কাজের সঙ্গে আগামী কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় (২৯ জানুয়ারি – ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) বিহার বাঙালি সমিতি অংশগ্রহণ করুক এবং তা নিম্নোক্ত কারণে –

১। বিহার বাঙালি সমিতির কার্যকলাপ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ক্রমশ বাইরের জগতের কাছে বিস্মৃত হচ্ছে, তাকে আবার পরিচিতির আলোকে আনা।

 



২। বিহার বাঙালি সমিতির সঙ্গে যুক্ত বিহারের নতুন প্রজন্ম এই সমিতিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিত দেখলে আরো উৎসাহিত হবে।

৩। বিহারের বাঙালিই শুধু নয় পুস্তকমেলায় আগত বিহারের সব ভাষাভাষী মানুষের  সাংস্কৃতিক ঠিকানা হতে পারবে এই স্টল।

৪। সমিতির কার্যকলাপের বিবরণ, সমিতির ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমিতি প্রাকাশিত পত্র-পত্রিকা, স্মরণিকা ও গ্রন্থাদি বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করা যাবে।

৬। পুস্তকমেলায় বিহার বাঙালি সমিতির সদস্য/সদস্যাদের বা সমিতির পরিচিতদের বই পত্র-পত্রিকা সমিতির স্টলে রাখা যেতে পারে।

 

৭। সম্ভব হলে বিহার বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বইপত্র সম্ভব এই স্টলে রাখা হবে। বিহার বাংলা একাডেমির নতুন সম্ভাবনার দিকগুলি এসবের মধ্য দিয়ে জাগ্রত হতে পারে।

৮। প্রয়োজনে মেলার কোনো মঞ্চ ভাড়া নিয়ে বড়ো করে বহির্বঙ্গের বাঙ্গালী, তাদের সমস্যা, প্রকৃত অবস্থান, করণীয় ও বাংলা সংস্কৃতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সেমিনার ও আলোচনা সভা করা হবে।

৯। বেশ কিছুদিন আগে কলকাতা পুস্তকমেলায় লিটল ম্যাগাজিন বাংলা পত্র-পত্রিকার একটি নির্দিষ্ট কর্নার থাকতো, নানান কারণে তা উঠে গেছে, এমনকি বহির্বঙ্গের থেকে আসা পত্রপত্রিকার সংখ্যাও কমেছে। এই স্টল সেই অভাব পূরণ করতে পারে। যে সব

পত্রপত্রিকা, সংস্থা দূরত্ব সময় বা ব্যবস্থাপনার কারণে মেলায় অংশ নিতে পারে না তাঁরা সমিতির এই স্টল ব্যবহার করতে পারে। 

১০। সামগ্রিকভাবে বিহারে বাংলা সংস্কৃতির পরিচয় সর্বভারতীয় স্তরে প্রসারিত করা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হিসেবে সমগ্র বহির্বঙ্গকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালী ভাষাচেতনার অংশীদার হওয়া এর উদ্দেশ্য।



 

        সত্যি অবাক হয়েছিলাম যখন এর কিছুদিন পরেই সমিতি থেকে জানানো হয় যে সমিতি কলকাতা পুস্তকমেলায় স্টল নেবে এবং আমাকে তার দায়িত্ব নিতে হবে। যে মুহূর্তে বইমেলা কর্তৃপক্ষ জানায় যে স্টল পাওয়া যাবে, সেই মুহূর্ত থেকেই সমস্ত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে বইমেলায় সমিতির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পূর্ব-উদ্দেশ্যগুলি যাতে সিদ্ধ হয় তার জন্য সর্বপ্রকার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খুব সামান্য সময়ের মধ্যে অনেকগুলি কাজ করে ফেলতে হয়। কিছু কিছু বই পত্রিকা আসে ডাকযোগে, কিছু হাতে হাতে। নাগাল্যান্ড আসাম ত্রিপুরা থেকে বই পত্রিকা এসে যায়, এসে যায় ঝাড়খণ্ড থেকে। সাড়া পাওয়া যেতে থাকে খুব আশাব্যঞ্জক রকমের। সমিতির মুখপত্র সঞ্চিতা, হিন্দি প্রচারপত্র, বেহার হেরাল্ড ও অন্যান্য প্রকাশনা পৌঁছে যায় বইমেলা শুরু হওয়ার আগেই। এবারের স্টল ক্রমাঙ্ক ছিল ৫০৭ এবং এর অবস্থান ছিল খুব ভালো জায়গায়। খুব কাছে ছিল লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বইয়ের স্টল, দুটো প্রবেশ দ্বার দিয়ে সমানভাবে আসবার সুযোগ ছিল। আমরা চেষ্টা করি ভারতের বিভিন্ন জায়গার বাংলা পত্রপত্রিকা এবং কোন প্রচেষ্টা নেই। বিভিন্ন রাজ্যের বাঙালি, বাংলা ভাষা, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সম্বলিত বইপত্র পত্রিকা চেয়েছেন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী গবেষকরা। বিহার থেকে সমিতির শ্রীশিবনাথ চ্যাটার্জী, সস্ত্রীক শ্রীঅজয় স্যান্যাল, শ্রীঅঞ্জন ভট্টাচার্য, শ্রীআশিস ঘোষ প্রমুখ সদস্যরা নানান সময়ে স্টলে উপস্থিত থেকে স্টলের নানান দায়িত্ব না সামলালে আমার পক্ষে এই কাজ করা সত্যি দুঃসাধ্য হত, বিশেষ করে প্রথম কয়েকদিন বাংলাদেশে থাকার কারণে অনুপস্থিত ছিলাম। আমার দুজন ছাত্র শ্রীমান সুরেশ ও শ্রীমান শুভম দুটি পর্যায়ে স্টলের সব দায়িত্ব সামলেছে বলে আরো কাজের সুবিধা হয়েছে। কবি শ্রীশান্তনু গঙ্গারিডির সর্বক্ষণিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বিষেশভাবে স্টলে নানান সময়ে বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থেকে, এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এবং জ্বলন্ত সমাজ রাজনৈতিক সমস্যা, বহির্বঙ্গের বাংলা, বাঙালি ইত্যাদি নিয়ে স্টলের মধ্যে, স্টলের সামনে আলোচনা তর্ক-বিতর্ক জমিয়ে তুলেছিলেন। একদিন বইপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল। শ্রীশান্তনু গঙ্গারিডির ‘এখানেই আমাদের ঘর গেরস্থালি’ কাব্যগ্রন্থের উদ্বোধন, কবিতাপাঠ এবং ‘এই সময়ে বাঙালি ও বাংলা ভাষার সমস্যা’ বিষয়ে আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন বিহার বাঙালি সমিতির সভাপতি ক্যাপ্টেন দিলীপকুমার সিনহা, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্য, সমিতির সদস্য সদস্যা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। আমরা দেখেছি বাংলার বাইরের পত্রপত্রিকা বই অনুবাদ-সাহিত্য পাঠকরা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে কিনেছেন প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আরো সুষ্ঠু ও পরিকল্পনামাফিক হোক তার জন্য শুভেচ্ছা দিয়েছেন। বিহার বাঙালি সমিতি নিজস্ব বইপত্র অত্যন্ত কম থাকায় অন্যান্য প্রকাশক লেখকদের কাছ থেকে আসা বইপত্রের বিক্রি বেশি হয়েছে, কয়েকজন সমিতির সদস্য হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

         

         যে উদ্দীপনা এই স্টলকে কেন্দ্র করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের  বাইরের অন্যান্য রাজ্যের বাঙালিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গেলে উপরিউক্ত উদ্দেশ্যগুলি অদূর ভবিষ্যতে সফল হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিহার বাংলা একাডেমিকে পুনরায় সক্রিয় করার কাজে সমিতির ভাবনাচিন্তা আরো দ্রুত ও কার্যকরী হওয়া বাঞ্ছনীয়। সমিতির হাতে যেসব মূল্যবান দলিল ও বইপত্র আছে, যেগুলি আর সহজে পাওয়া যায় না, সেগুলি পুন:প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে বহির্বঙ্গের অন্যান্য প্রকাশক, লেখক ও সংস্থার সঙ্গে আরো নিবিড় যোগাযোগ করে বইমেলায় অংশগ্রহণ করা যেতে পারে। সমিতির নিজস্ব যেসব এজেন্ডা আছে তার সঙ্গে এগুলো যুক্ত হলে ভালো হয় বলে আমার ধারণা। বাইরে ও ভেতরের সব কার্যক্রম মিলিয়ে সমিতির সেই অতীত উজ্জ্বল মহিমান্বিত দিনগুলি এইরকম নানান উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আবার ফিরে আসুক এই কামনা করি। আগামী দিনে বইমেলায় বিহার বাঙালি সমিতি আরও বৃহৎ, পরিকল্পিত এবং সফলভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবে এই আশা রাখি।  

 *************

 


 বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...