Wednesday, May 19, 2021

আসামের ভাষা আন্দোলনের ’শিক্ষা ও আহ্বান': নীতীশ বিশ্বাস।

 আসামের ভাষা আন্দোলনের ’শিক্ষা ও আহ্বান'

 নীতীশ বিশ্বাস।

১৯৬১সালে আসামে জোর করে বাংলাভাষা কেড়ে নিয়ে অসমিয়া চাপিয়ে দেবার বিরুদ্ধে ১৯শে মে বাংলা ভাষী বরাকবাসী সত্যাগ্রহ প্রতিরোধ আন্দোলনে সামিল হন।প্রবল জনজোয়ার ওঠে হাইলা কান্দী, করিমগঞ্জ ও শিলচরে । শিলচর রেলস্টেশনে অহিংস সত্যাগ্রহীদের পরে নির্বিচার গুলি চলে। একদিনে ১১জন শহিদ হন। যারা হলেন বিশ্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদ মাত্র ১৬বছর বয়সের কুমারী কমলা ভট্টাচার্য, ২০ বছরে ছাত্র শচীন্দ্রনাথ পাল,   ১৫ বছরের ছাত্র ও সামান্য স্টেশনারী  দোকানের মালিক সুনীল কুমার সরকার, সদ্য  বিবাহিত বীরেন্দ্র সূত্রধর;  রেলবিভাগের কর্মী ও বাম পন্থী ইউনিয়নের স্থানীয় নেতা কানাইলাল নিয়োগী, সাহসী,পরোপকারী আর ভয়ানক দরিদ্র, বয়ণ শিল্পী সুকমল পুরাকায়স্থ, দারুশিল্পী চন্ডী চরণ সূত্রধর, অবিবাহিত দেশপ্রেমিক যুবক  সত্যেন্দ্র দেব, উদ্বাস্তু জীবনের ঘূর্ণাবর্তে ত্রিপুরা হয়ে শিলচরে কাপড়ের দোকান-কর্মী হীতেশ বিশ্বাস, শৈশবে মাতৃহারা ও মামার চায়ের দোকানে সহকারী কুমুদ রঞ্জন দাস, এবং বয়ন সমিতির সম্পাদক তরণী দেবনাথ। এদের রক্তে রঞ্জিত পথে আসে ১৯শে মের সাফল্য। শেষ পর্যন্ত আসামে দ্বিতীয় রাজ্য ভাষার মর্যাদা পায় বাংলা। কিন্তু তার বিরুদ্ধে পদে পদে চক্রান্ত চলতেই থাকে যা আজ বিজেপির মদতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এখন বাঙালিকে তার ন্যুন্তম নাগরিক অধিকার পর্যন্ত হরণের সব ধরণের চক্রান্ত চলছে।যার বিরুদ্ধে চাই ভারত ব্যাপী বাংলা ভাষী ও গণতান্ত্রিক মানুষের  মহান ঐক্য ।

 এই প্রেক্ষিতে বলতে চাই  অনেক ‘মহান বাঙালি’ আমাদের  বাংলাভাষা প্রেমকে সংকীর্ণ ভাবেন। তারা ২০২১শে এসেও ভেবে দেখেন না, মায়ের ভালবাসাও বাইরের থেকে দেখলে সংকীর্ণ মনে হতেপারে। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে যেমন দেশ-প্রেমকে অনেকে সংকীর্ণ বলেন।আজ যারা বাংলা দেশের সমর্থক তারা মুক্তি যুদ্ধের আগে কি বলতেন বা ভাবতেন মনে করুন। যা বুঝতে চান না  কেবল উদারতা নামক উদরাময় রোগাক্রান্ত ও দেশপ্রেমহীন কিছু  স্বার্থপর লোকেরা । তারা যখন ভাষা আগ্রাসনের সামনে পড়েন তখন যেনো তাদের কন্ঠে আর জোর  থাকে না । তাই আজও যে    বাংলা ভাষার জন্য কেন্দ্রের বাজেটে কোন বরাদ্দ নেই ; তাও কোন বাঙালি সাংসদের গলায় একটি শব্দ  ফোটে না। নিয়ম থাকলেও এন সি ই আর টির (NCERT)বই বাংলায় এই ৭০ বছরে  ছাপা হলনা । কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে নানা অজুহাতে  বাংলা পড়ানোর কোন ব্যবস্থাই হল না। রাজ্যে রাজ্যে বাংলা স্কুল উঠে গেল । আকাশবাণীর দিল্লী ও কলকাতা কেন্দ্রের বাংলায় জাতীয় খবর সম্প্রচার বন্ধ হোল। দূরদর্শনে হিন্দিতে অযুত চ্যানেল থাকা সত্ত্বেওকলকাতার দূরদর্শনের প্রাইম টাইমে নানা অজুহাতে প্রতি বছর বাংলা অনুষ্ঠান কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে । যারা এসব বিষয় জানেন তারা ব্যক্তিস্বার্থে কথা বলেন না । রবীন্দ্র-নজরুলের ঐতিহ্য বিরোধী দিল্লীর  নানা “ডেমি-পুরস্কারলোভী” তথা এই  মৌলোভীরাই  বাংলার বুদ্ধিজীবী কুলের উজ্জ্বল(!)তিলক। এই অবস্থায় আমাদের চোখের সামনে দন্ডকারণ্যের গোটা ৫০০ বাংলা স্কুল হারিয়ে গেল। বড় বড় শহরে বনেদী বাংলা স্কুলের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে থাকলেও বাংলা হীন সে সব বাংলা স্কুল বাঙালির প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।  আসামে ১৯শে মের যে অর্জন ছিল  তাও যে  নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে;  তা যেনো উচ্চারণেই পাপ। এমন কি রবীন্দ্র নাথের বিশ্বভারতীতেও বাংলা আজ পদে পদে  আক্রান্ত । কিন্তু কোন দলের মহান নেতারা যেনো  কিছুই জানেন না।  যেমন প্রথম হটাৎ দেওয়া লকডাউনের আগে   পরিযায়ী শ্রমিকের কথা মোদিজি ভুলেই ছিলেন। যেহেতূ বাঙালি ছাড়াও নানা ভাষীরা সে দলে ছিলেন  তাই মিডিয়ায় একটু শোরগোল হল ।কিন্তু   আন্দামানে সঠিক-জনসংখ্যার  ৬৪% বাঙালি হলেও সেখানের  প্রশাসনিক ভাষা ১৯৮৭থেকে হিন্দি হয়ে গেল।সেখানেও  বাংলাভাষা প্রায় নিশ্চিহ্ন।  ঝাড়খন্ডে ৪২% বাংলাভাষী হলেও একরাত্রির ফরমাণে বাংলা মাধ্যমের ৯০হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে হিন্দী মাধ্যমে ঠেলে দিলো বিজেপি সরকার।বাংলা স্কুল হীন এখন ওড়িষা থেকে উত্তরপ্রদেশ-এমনি ভয়াবহ সে অবস্থা সারা ভারতে । কিন্তু আমাদের বেদনা অন্যরাজ্যেই নয় এই বাংলায়ও এখন বাংলাচর্চা নিম্নমুখী।নতুন সরকার এসেই ব্লকে ব্লকে ইংলিশ (মূলত হিন্দি-ইংরেজি)স্কুল খোলার ঘোষণা দিলেন ।বললেন না বাংলা স্কুল গুলির পুরনো ঐতিহ্য ফিরিইয়ে আনার কথা। 

আসামে সাত দশক ধরে বাঙালি নিধন-নির্যাতন ও বিতাড়ন চলল, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ওখানের কত বামপন্থীরা প্রাণ দিয়েছিলেন । তার পরও বাংলার বনেদী সব পার্টি আর তার  মহাপ্রাণ নেতারা এই সংকীর্ণ বাঙালিরক্ষার রাজনীতি করতে এগিয়ে এলেন না ।আসলে তাদের কত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে  ভাবতে হয়,এসব তুচ্ছ বিষয় চর্চার সময় কোথায় ?!

 তাই ঐসব  হৎভাগ্য ভাই বোনের কথা  আমাদেরর মনেও আসেনা । আর ভোট–সর্বস্ব রাজ নৈতিক দলগুলি দেখলো এদের তো এখানে ভোট নেই, এসব সর্ব ভারতীয় অবান্তর  বিষয়ের দায় তো সর্ব ভারতীয় কমিটির বা কেন্দ্রীয় কমিটির। আর সে সব কমিটির বাঙালি সদস্যরা এতোই দলানুগত যে এই সব সংকীর্ণ ইসু তোলার মতো ‘মূর্খ-সদস্যের অভাব হইল’।শুধুকি তাই  কলাটা মূলোটার উজ্জ্বল চেহারা দেখে  সে সব   কথা বলার যেনো মনোবলই তারা পেলেন না ।তাই রাজ্য ও কেন্দ্রে বাংলা ভাষা ও বাঙালিরাই ভারতে আজ সবচাইতে অবহেলিত।কবির ভাষায়,“বাংলা ভাষা জননী, তুমি  এদেশে সন্তান হীনা” ।

  ভারতে অধিকাংশ রাজ্যে সেই সেই  রাজ্যের প্রধান ভাষা স্কুলস্তরে আবশ্যিক ।কেবল বাদ এই রাজ্য। সম্প্রতি কেরলও তা করল। কিন্তু আমাদের বিধায়ক-সাংসদেরা অধিকাংশই  সেসব তথ্য সঠিকভাবে  জানেন না। আর  তারা জানেন না নিজেকে ছাড়া  কাকে ভালোবাসেন সে কথাও। নিজের কেরিয়ারের জন্য তারা আন্তপার্টি সংগ্রাম করে তার ন্যায্যদাবি বের করে আনার মতো  তাত্ত্বিক ও তাথ্যিক শক্তিধর  নন অথবা ব্যক্তি স্বার্থে সে  ইচ্ছেও  তাদের মনে হয়তো আসে না । না হলে সোমনাথ  লাহিড়ী ১৯৬৩ সালে বিধান সভায় যে দাবি করতে পারেন তা এযুগের  কোনো দলের কোনো নেতা তা তুলতে পারেন না ? এমন কি, “ ২০১৭ সালের ১২ই মে ( সামনে ১৯শে মে ছিলো, আর আমাদের মতো সংগঠন সমূহের লাগাতার দাবিতে)  মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন অবিলম্বে রাজ্যের সব মাধ্যমের( হিন্দি-ইংরেজি সহ )বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত একটি বিষয় আবশ্যিক ভাবে বাংলা করা হল ”। আমরা আগেও বলেছি এবং এখনও বলছি পার্বত্য জেলা পরিষদ বাদে এই আইনের নির্দেশিকা  প্রকাশ করা হোক। কিন্তু মাননীয়া কিভাবে আর কেনো যে সে সব ভুলে গেলেন তা আজও জানিনা । আর বিরোধীরা রাজ্যের সার্বিক স্বার্থে  নানা ইসুতে নবান্নে গিয়ে পর্যন্ত সমর্থন দিয়ে আসেন, এক্ষেত্রে এই হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্থান জিগিরের বিরুদ্ধে কেনো মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা কার্যকরী করার জন্য সেদিন তারা দাবি জানালেন না ? 

 শাসক ও বিরোধী দলের সবাইকে আবেদন অবিলম্বে  রাজ্যের সম্প্রীতির সার্বিক স্বার্থে  আমাদের  দাবিগুলি গ্রহণ করুনঃ ১। স্বশাসিত জেলা বাদে রাজ্যের প্রধান ভাষা বাংলা আবশ্যিক ভাবে সমস্ত ধরনের স্কুলে পাঠ্য করতে হবে. ২। কেন্দ্রীয় স্কুল সহ কেন্দ্র-অনুমোদিত সমস্ত স্কুলে বাংলা পড়ানোর সুযোগ দিতে হবে।৩। রাজ্যের সমস্ত কেন্দ্রীয় দপ্তরে এমন কি বেসরকারী দপ্তরে এরাজ্যের বাংলা জানা প্রার্থীদের চাকুরি দিতে হবে।৪।সাইন বোর্ডসহ সমস্ত জনসংযোগের  কাজে বাংলা আবশ্যিক করতে হবে। ৪। রাজ্যের চাকুরি ও জয়েন্টের সমস্ত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র  বাংলায় দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।৫।রেডিও- টিভিতে বাংলা-অনুষ্ঠানের সময় বাড়াতে হবে। ৬। দিল্লীসরকারের  মতো রাজ্যের সমস্ত সরকারী  স্কুলের উন্নতি বিধান করতে হবে। কোন অজুহাতে বাংলাস্কুল বন্ধ করা চলবে না।                                                                               তবে আমরা পরিস্কার ভাবে একথা বলতে চাই যে, সারা রাজ্যে বিশেষ করে যে ভিন্ন রাজ্যের ও ভিন্নভাষী যারা আছেন তাদের  এরাজ্যে শান্তিতে থাকার ও  সম্প্রীতির বাতাবরণ জোরদার করার পক্ষে আমরা । তবে  গুজরাট থেকে কাশ্মীরী (পশ্চিমা) ধনিক রাজনীতিকদের  চক্রান্তে দেশভাগের নিষ্ঠুর-বলী বাঙালি, তাদের নাগরিকত্বের নামে বিজেপির অত্যাচার বন্ধ হোক।, রবীন্দ্র-নজরুলের ভাষা তথা পৃথিবীর ৪র্থ ভাষার  পক্ষেআমরা ।আমাদের  সমাজ জীবনের ভাষা হোক বাংলা।   ভাষার ক্ষেত্রে আমরা  অন্য কোন  ভাষা বিদ্বেষী নই । আমাদের ঐতিহাসিক  ডাক ," নিজের মাতৃ ভাষাকে ভালবাসো, আর অন্যের মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা কর।"-আমরা সেই পথেই চলছি। আপনিও স্বাগত।১০৭৭শব্দ ।

 *সম্পাদক,সর্ব ভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চ, সহমর্মী, ঐকতান গবেষণা পত্র Ph: 9330961824  ।

১৯ মে, ১৯৬১ সাল। অসমের বরাক উপত্যকা।

 ১৯ মে, ১৯৬১ সাল। অসমের বরাক উপত্যকা।




প্রণামঃ 


কমলা ভট্টাচার্য, বীরেন্দ্র সূত্রধর, কানাইলাল নিয়োগী, হিতেশ বিশ্বাস, চন্ডীচরণ সূত্রধর, সত্যেন্দ্রকুমার দেব, কুমুদরঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, তরণী দেবনাথ, শচীন্দ্র চন্দ্র পাল, সুকোমল পুরকায়স্থ। …


আলো রায়, পূর্ণিয়া

প্রয়াত সাহিত্যিক শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রয়াত সাহিত্যিক শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গভীর রাতে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৫৪। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবিটিসে ভুগছিলেন শীর্ষ। গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়ও ছিলেন তিনি।


সোমবার রাতেই ফেসবুকে জলরঙে আঁকা কালো আকাশের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলে, ‘ওরে ঝড় নেমে আয়।’ এরপর ভোরের দিকে বাথরুমে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ সেখান থেকে না বেরোনোয় সন্দেহ হয় পরিবারের tসদস্যদের। সকালে বাথরুমের দরজা খুলে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন মেয়ে। চিকিৎসকরা এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস শার্দূলসুন্দরী। এই উপন্যাস বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর একের পর এক উপন্যাস, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গ্রন্থগুলি হল- স ন্ধ্যা রা তে র শেফালি, ইথারসেনা, জলের ওপর দাগ, রমণীরতন।

সাহিত্যিক ছাড়াও সাংবাদিক হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক বাংলা দৈনিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল এবং জার্মান রেডিওর বাংলা বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। মোট প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪। শার্দূলসুন্দরীর জনপ্রিয়তার কারণে এই উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদও প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার সাহিত্যজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাঁর প্রয়াণে কলকাতা প্রেস ক্লাব থেকে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, প্রেস ক্লাব, কলকাতা এই উদীয়মান সাংবাদিক ও সাহিত্যিকের অকাল প্রয়াণে তাঁর পরিবার ও সতীর্থদের আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

এই লেখাটি প্রয়াত সাহিত্যিক শীর্ষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন ও কাজের পরিচয় জ্ঞাপক।

সকলে শোকস্তব্ধ অকাল প্রয়াণে।

অন্তরের শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই তাঁর স্মৃতির প্রতি।

অজয় স্যানাল

Tuesday, May 11, 2021

রক্তদান

 বিহার বাঙালি সমিতির সদস্য রাহুল দাস  (বেলোরি,পুর্নিয়া ) থ্যালাসেমিয়া রোগে গ্রস্ত ব্রজেস কুমার এর জন্য (সিফাহি টোলা, পূর্ণিয়া ) o+ রক্ত গত ৩০।০৪।২০২১ এ দান করেছেন , ব্রাজেস কুমারের স্বাস্থ্য কামনা করি এবং রাহুল দাস কে সমিতির পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এই মানবিক কাজের জন্য।



প্রতিবেদন - নারায়ণ চন্দ্র দাস

লহ প্রনাম হে বিশ্বকবি: মিলন মিশ্র

 লহ প্রনাম হে বিশ্বকবি

 (বিশ্ব কবির ১৬০ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন)


লহ প্রণাম হে বিশ্বকবি তুমি

লহ প্রণাম হে রবিঠাকুর তুমি

লহ প্রনাম আমার

লহ প্রণাম আমাদের সবার

তুমি এত কিছু দিয়ে গেছ আমাদের

তুমি কত কিছু দিয়ে গেছ আমাদের

তুমি দিয়ে গেছ কত সুর  কত গান

কত গল্প কত ছন্দ আর শিশিরের আঘ্রাণ

আমরা আজও পারিনি সব গান গাইতে 

পারিনি আমরা তোমার সুরে সুর মেলাতে 

আমাদের বাড়ির মিনী আজও

নিজেকে খুঁজে পায় নিজেকে খুঁজতে চায় তোমার সেই মিনীর মধ্যে 

মনে মনে সে অপেক্ষা করে 

কোনো এক কাবুলিওয়ালার

সেই কাবুলিবালার লম্বা ঝুলির 

আর সেই ঝুলির ভেতরের

মিনীর জন্যে আনা সেদিনের উপহারের 

বিনোদিনী মহেন্দ্র কি বিনয় সুচরিতা 

আজও আছে এপাশে ওপাশে আমাদের আনাচে কানাচে

তোমার গল্পের গুচ্ছ কই তাও হয়নি এখনো ভালো করে বোঝা 

সমস্ত কবিতা আবৃত্তি করে উঠতে পারিনি আজও আমরা

তবে  আজও আবৃত্তিকারের আবৃত্তির প্রথম প্রেম 

“প্রানের বাসনা প্রানের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি”

এযে নির্ঝরের স্বপ্ন ভাঙিয়ে দেওয়া প্রেম

রোমাঞ্চিত হয়ে নতুন প্রজন্মের বীরপুরুষরাও যখন মা শোনান

......“আমি যাছি রাঙ্গা ঘোড়ার পরে টগবগিয়ে তোমার পাসে পাসে...”

......“ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজে...”

প্রজন্ম নির্বিশেষে আজও শিশুরা তোতলায় 

“...তালগাছ তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে ...”

আর ঘুমন্ত শিশুও ওই মহাকাশে উঁকি মেরে রাত্তিরে তোমাকে খুঁজতে চায় 

তোমার সাহিত্য সৃজন আর তার সম্ভার

নানান রঙের সুবাসী পুষ্পের শুধুমাত্র একটি পূজার ডালি যে নয় 

এ যে সুবাসী পুষ্পে ভরা এক উপবন 

দিব্য এক অঞ্জলিপূর্ণ নিবেদন

গবেষণা চলবে অনন্ত কাল  


হে অবিসংবাদি সাহিত্য সম্রাট 

তুমি তো উর্ধ্বে সব পরিভাষার

আর আমাদেরও ভাষা কই 

তোমায় সঠিক পরিভাষা দেবার

তাই থাক  না ব্যতিক্রম

তুমি থাক আমাদের মাঝে এক প্রবাহ হয়ে

এক স্পন্দন এক গুঞ্জন এক প্রবহমান চিন্তন হয়ে 

আর প্রবাহ মানে না কোনো সীমানা

তুমি থাক চিরকাল হয়ে এক অন্বেষণ

এক অজানা এক আনকোরা অন্বেষণ

শান্তিনিকেতনের প্রতিটি বৃন্ত  আর প্রতিটি পুষ্পের মাধ্যমে

গীতাঞ্জলীর প্রতিটি ছন্দের মাধ্যমে

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি

আর জন গণ মনর প্রতিটি মানুষের মাধ্যমে

হে কবিগুরু আজি এ জন্মদিনে লহ অজস্র অভিনন্দন

হে বিশ্বকবি তুমি লহ প্রনাম তুমি লহ প্রণাম


মিলন মিশ্র

"চিত্রদীপ"

উত্তরায়ন , বাঁকুড়া

২৫শে বৈশাখ ১৪২৮

প্রয়াত : অঞ্জলী ভট্টাচার্য

ঝাড়খণ্ড বাঙালি সমিতির জামশেদপুর শাখার একনিষ্ঠ কর্মী অঞ্জলী ভট্টাচার্য্য চিরতরের জন্য ঘুমের দেশে চলে গেলেন । উনি বিদ্যাসাগর স্মৃতি রক্ষা সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি, ঝাড়খণ্ড এর স্টেট সেক্রেটারি গৌতম চট্টোপাধ্যায় শোক ব্যক্ত করে বলেছেন, ওনার প্রয়াণ সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি ।



প্রতিবেদন - গৌতম চট্টোপাধ্যায়

বিহার বাঙালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল দাশ সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন ও তাঁর আত্মার শান্তি কামনা জানান। অবিভক্ত বিহার বাঙালি সমিতির সম্মলনে তিনি পাটনা ও অন্যান্য শাখার বৈঠকে যোগদান করেছেন। তাঁর উদ্যোগে কর্মাটাঁড় বিদ্য়ালয়ে মিড ডে মিল শুরু করা হয়েছিল। তাঁর ছেলের মাধ্যমে "অগ্রণী" আমেরিকা সংস্থার থেকে অনুদান সংগ্রহ হয়েছিল।  


Monday, May 10, 2021

রবীন্দ্র জয়ন্তী : রানিশ্বর ব্লকের সাদিপুর এর মিডিল স্কুলে

 দূমকা( ঝাড়খণ্ড) । রানিশ্বর ব্লকের সাদিপুর এর মিডিল স্কুলে রবিবার ২৫ শে বৈশাখ একটি সাদা মাঠা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হল রবীন্দ্র জয়ন্তী । বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অধ্যাপিকা মিতালী চ্যাটার্জি, তুহিনা অধিকারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যারপন করেন ।২০১৭ সালের ২৫ বৈশাখ ভারপ্রাপ্ত প্রধান অধ্যাপিকা , স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসী দের প্রচেষ্টায় স্কুল চত্বরে কবি গুরুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় । মূর্তির টি অনাবরণ করেন রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের   সদস্যা বেবি সরকার, শিকারিপাড়া বিধানসভার স্থানীয় এম এল এ নলিন সরেন শিক্ষা বিভাগের আধিকারিক । এবার কোরনা সংক্রম এর ভয়াবহতা ও  কোভিড এর গাইড লাইন কে অনুসরণ করে জয়ন্তী পালন করা হয় ।


প্রতিবেদন - গৌতম চট্টোপাধ্যায়

কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী: বিহার বাঙালি সমিতি বরারী শাখা

 বিহার বাঙালি সমিতি বরারী শাখার পক্ষ থেকে কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান আজ কভিড এর বিধি অনুসরণ করে  বিহার বাঙালি সমিতি বরারী শাখার প্রেসিডেন্ট এর বাসভবন ছোট্ট খঞ্জরপুর অবস্থিত সিনহা বাড়ীর প্রাঙ্গণে পালিত করা হয়। বিহার বাঙালি সমিতি  কেন্দ্রীীয় সমিতি যুগ্ম সচিব  শ্রী তাপস ঘোষের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এই উপলক্ষে উপস্থিত সকল সদস্য প্রতিমাতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং মাল্যদান করে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন।







 এই উপলক্ষে বরারী শাখার সভাপতি শ্রী তরুণ ঘোষ, রঙ মহোৎসব কমিটির আহ্বায়ক দীপক মন্ডল, শ্রী অশোক সরকার, সহ সম্পাদক শ্রী শান্তনু গাঙ্গুলি, সিনহা বাড়ীর শ্রী অমিত সিনহা, বিহার বাঙালি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি শ্রী সুবোধ কুমার ভৌমিক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্রী তাপস ঘোষ, শ্রী ঘোষ গৌরব, তনুশ্রী ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।বিহার বাঙালি সমিতি বরারী শাখার প্রেসিডেন্ট  শ্রী তরুন ঘোষ মহাশয় সমাজ এর সমস্ত লোকের কাছে অনুরোধ করেন যে তারা কোবিডের এর সমস্ত বিধি অনুসরণ করেন।

প্রতিবেদন - সুবোধ ভৌমিক

কবি প্রণাম: অঙ্কন রায় ও কস্তুরী চট্টোপাধ্যায় ।


 

Tuesday, May 4, 2021

-নব বর্ষের এ কাল ও সেকাল - তৃষা পাল


ইংরেজি ক্যালেন্ডার সরিয়ে পঞ্জিকা এলো ঘরে
আকবর হিজরী সন সরিয়ে বঙ্গাব্দ গড়ে |
চন্দ্র গণনা বাদ দিয়ে সৌর আরবি মিশে
ফসল তোলা আয়কর মেলে অনায়াসে |
জাত ধর্ম ভুলে গিয়ে মিলিত হয় বাঙালি
মুর্শীদ কুলি খাঁ, মিষ্টান্ন মুখের প্রবর্তক জানি |
আজ বাঙালির ব্যবধান ,তবু কি থাকবে দূরত্ব?
বাঙালির মিলন মেলায় শিল্প মহলে গুরুত্ব
রবি নজরুল এক হয়ে ভাঙে কাঁটাতার
দুই বাংলার উজ্জাপন বর্ষবরণ আধার |
গান কবিতা প্রযুক্তিতে এক সেতু তৈরী
নববর্ষের নব পরিধান , লাল খাতার শৈলী
অর্থনীতি নির্ভর হয়ে বঙ্গাব্দ বরণ
দোকান পাটে ঋণ সোধে নতুন বর্ষ স্মরণ
অদেখা শত্রু আজ রাখে গৃহবন্দী করে
তবু নববর্ষ হরষে আসে বাংলার আবেগ ভরে |--------
লিখতে বসেছি নব বর্ষের একাল ও সেকাল। কি লিখবো ভাবতে গিয়ে মেগাসিরিয়াল এর মত চোখের সামনে ভেসে উঠছে আমার ছোটবেলার নব বর্ষের আনন্দ ফুর্তি উল্লাসে কাটানো দিনগুলো ।
পরিবর্তনের দুটো যুগেরই সাক্ষী আমি ।
ছোটবেলায় নববর্ষ অন্যরকম ছিল । মায়ের সাথে আমরা বোনরাও কাকভোরে উঠে গঙ্গা স্নানে যেতাম ।।দুয়ারে আলপনা আঁকা হতো ।সদর দরজা আম পাতা আর সোলার বল দিয়ে সাজানো হতো ।রেডিও থেকে ভেসে আসা রবীন্দ্র সংগীত , এসো হে বৈশাখ এসো এসো । আমরা মায়ের হাতের সেলাই করা ছিটের নতুন জামা পরে বড়দের প্রণাম , মা ঠাকুরমায়ের আশীষ ,বড়দের দেখাদেখি আমরা ও করতাম কোলাকুলি ।ঠাকুরমার হাতের নাড়ু নতুন গুড়ের পায়েস দুপুরে ভাত কিংবা পোলাও মাংস সাথে দই মিষ্টি সব যেন কেমন নতুন বছরের গন্ধ বয়ে আনতো। তারপর বিকেলে ছিল হালখাতা। মুদি দোকান থেকে সোনার দোকান সব দোকানে দাদাদের সাথে গিয়ে মিষ্টির প্যাকেট ,ক্যালেন্ডার আর কপালের জোর থাকলে কাঁচের বোতলে কোকোকোলা । বাড়ি ফিরে সেগুলো ভাইবোন মিলে ভাগ করে খাওয়া সে যে কি আনন্দ ভুলতে পারি না ।সন্ধের পর পাড়ায় কারও বাড়ির উঠানে বা ছাদে গান নাচ ও কবিতার আসর সেখানে বড়দের সাথে ছোটরা ও অংশ নিত ,কোন কোন বাড়িতে কীর্তন হতো সেসব বাড়িতে প্রসাদ খেতে যাওয়া সে ও ভারী আনন্দ ।
সে আনন্দ যেন একটা নতুন বছরের আনন্দ বয়ে আনতো।
দিন যায় দিন আসে । সে কালের মত এ কালের সূর্য ও একই ভাবে উদয় হয়
কালের স্রোতে এখোনো নতুন বছর আসে ।যুগের সাথে পরিবর্তন এই তো সংসারের নিয়ম । সেকালে র নব বর্ষ আর এ কালের নব বর্ষের তফাৎ বুঝতে পারি । আজকাল আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের পাঠানো শুভ নববর্ষের ছবি গান আর মেসেজে ফোনের ইনবক্স ভরে যায় ,ফেসবুকের
বন্ধুরা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায় ।
নব বর্ষের দিন বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম কোলাকুলি র হয়তো কিছুটা এখন ও প্রচলন আছে । মায়ের হাতে তৈরি ছিটের জামার পরিবর্তে ছেলে মেয়েরা শপিং মলে যায় নিজেদের জামা কাপড় পছন্দ করে কিনে আনে । রেস্টুরেন্টের মোমো পিৎজা বিরিয়ানী চাইনিজ বেশ আয়েশ করে খায় ।প্রিয়জনদের উপহার দিয়ে ও নব বর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় হয় ।
হালখাতা চল নেই কারন বাড়ির সবই প্রয়জনীয় জিনিস তো বিগ বাস্কেট বা শপিং মল থেকে আসে।
ঐ দিন পিকনিক বা আউটিং এর চল এখন বেশী।পাড়ার ক্লাবে বা বন্ধু বান্ধব রা মিলে গান বাজনা নিজেদের মত করে ।
বৈশাখী মেলার আনন্দ থেকে আমাদের ছেলে মেয়েরা বঞ্চিত ।দল বেঁধে আমরা বাড়ির ছোটরা যেতাম গ্রামের মাঠে বসা বৈশাখী মেলায়। একটি গোটা সিদ্ধ ডিম কিংবা পুরো একটি আলুর দম কাঠিতে ঢুকিয়ে খাওয়ায় যে আনন্দ, পুতুল নাচ ,নাগর দোলা আজ ও মনের কোঠায় জ্বল জ্বল করছে।
আজ আমার সন্তানরা নব বর্ষের দিন বড় বড় ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে বার্গার, সাসলিক কিংবা স্যান্ডউইচ খেয়েও কি সে আনন্দ পায়? আনন্দ পাওয়ার সে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ কিংবা মানসিক প্রস্তুতি কি তাদের আছে? নেই। চরকিতে চড়া, বায়োস্কোপ দেখার খুশি খুশি মুখ কি আজ সিনেপ্লেক্সে পাওয়া যায়? হয়তো অনেকে বলবে, আমরা আধুনিক হয়েছি, প্রযুক্তি এগিয়েছে—পুরনোকে আঁকড়ে ধরে কী লাভ? আমি বলব, সে-ই প্রকৃত আধুনিক, যে নিজের অস্তিত্বের ওপর দাঁড়িয়ে নতুনকে আবাহন করে।
বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজার পর নববর্ষের এই উৎসব অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। মানুষে মানুষে মৈত্রীর বন্ধন, ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি ভাবীকালের মঙ্গল ও শুভর কামনায় এর প্রতিটি উপাদান থাকে সজীব। শোষণ, শাসন, তোষণ কিংবা পশ্চাত্পদ ভাবাদর্শ কোনো কিছুই বাঙালির নিজস্ব শক্তির অফুরন্ত আধার থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে পারেনি, হয় তো পারবেও না কোনো দিন।আমাদের পরের প্রজন্ম কি করবে বলা কঠিন ।----------


1

 বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...