Wednesday, September 16, 2020

ডাক্তার শরদিন্দু মোহন ঘোষাল (কাকাবাবু স্মরণে): সত্যব্রত সেন মজুমদার (প্রসাদ) (বরোদা)

 ডাক্তার শরদিন্দু মোহন ঘোষাল

(কাকাবাবু  স্মরণে)

 সত্যব্রত  সেন  মজুমদার (প্রসাদ)  (বরোদা)

         ১৯৫০ সালের মাঝামাঝি সময়  তখন স্কুলে পড়ি থাকতাম পাটনার মাখনিয়া কুয়া রোডে ! আমাদের বাড়ীর কয়েকটা পরে বিরাট গেটওলা সুন্দর স্ট্যাচু দেওয়া একটি বাড়িছিল সেটার মালিক ছিলেন সর্গীয় বিহালীলাল ভট্টাচারী মহাশয়  আমার তাঁকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি তবে  ঠাকুরমা  এবং কানাই কাকা তার পরিবার নিয়ে বাড়ীর ডানদিকে থাকতেন ! বিরাট জায়গা নিয়ে বাড়িটা ছিল ! এই বাড়ির একদিকে কাকাবাবু থাকতেন ! সামনের দিকে তাঁর রুগী দেখার ঘর ছিল এবং পিছন দিকে কাকাবাবু এবং কাকিমা থাকতেন ! ওনাদের একমাত্র পুত্র সুভাষদা তখন কলকাতায় থেকে পড়াশুনা করতেন ! আমাদের দুই বাড়িতেই  ছোটবেলায় যাতায়াত ছিল !


 তখনকার সময় ডাক্তারবাবুর  রুগী দেখার ফী ছিল ১৯ টাকা বাড়িথেকে ডাক এলে তখন নিতেন ৩৮ টাকা ! আমরা দেখেছি ওনার রুগ্গি দেখার  কায়দা অন্য ডাক্তারদের থেকে  একদম আলাদা ছিল ! রুগীদের বলতেন পায়খানা এবং মূত্র নিয়ে আসতে, উনি সেটা খালি চোখে পরীক্ষা করতেন এছাড়া রুগীকে তার কষ্টের কথা পুলিশদের মতন জেরা করতেন, ওষুধ খুব কম দিতেন, রুগীর খাবারের  ওপর বেশী জোর দিতেন ! অনেক রুগী ওষুধ কম দেন বলে অসন্তুষ্ট হতেন ! তখন কার দিনে অষুধের মিক্সচার দেবার চলন ছিল বোতলে লেভেল দেওয়া এখন সেটা একদম উঠে গেছে!

না এক্সরে না বেশি ঔষধ  রুগীরা অসন্তুষ্ট হলেও রোগ মুক্ত হতেন বলে সব রুগীর ওনার উপর খুব  ভরসা ছিল  ! ওনার গাড়ির ড্রাইভার কাম কম্পাউন্ডার ছিল  ছবিনাথ, ওই বাড়ীর ঢোকার মুখে ডান দিকে থাকতো ! আসলে ওটা একটা গাড়ির গ্যারেজ কে থাকার জায়গা বানানো হয়েছিল ! গরীব রুগী হলে ছবিনাথকে বলতেন, স্যাম্পল পাওয়া ঔষধ দিয়ে দিতে!

উনি ছিলেন প্রিন্স ওফ ওয়েলস মেডিকেল কলেজ পাটনার মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর এবং হেড অফ দি ডিপার্টমেন্ট! কর্মজীবনে কিছুদিন গান্ধী, ময়দানের এক পাশে কোয়াটারে ছিলেন ! গঙ্গার ধারে, একপাশে গার্লস হাই স্কুল এবং আরেকপাশে মগধ মহিলা কলেজ বিরাট বড় কম্পাউন্ড তার মাজখানে বাড়ি ছিল ! নানা রকম ফল এবং ফুলের গাছ ছিল ! আমার এখনো মনে আছে আমের গাছ, জাম গাছ, পেঁয়ারা এবং লেবুগাছ সময়ের তালে বহুবার ওখানে গেছি এবং এইসব ফল পেড়ে খেয়েছি! পিছন দিকে গঙ্গার ধারে অনেক জায়গা ছিল সেখানে মালি আলুর চাষ করতো ! রাতের বেলায় সজারু আসতো আলুর ক্ষেতে, অনেকবার সজারু মেরে আমাদের বাড়ীতে ছবিনাথ গাড়ী করে দেখাতে এনেছিল ! 

          ওই কোয়াটারে সুভাষদার বিয়ে হল, সামিয়ানা খাটিয়ে প্রচুর লোক নিমন্ত্রিত হয়ে ছিল ! আমরা স্কুলের পরে পায়েহেঁটে প্রায়ই কাকা বাবুর কোয়াটারে যেতাম এবং ফেরার পথে কোনো কোনো দিন বাবার সঙ্গে সাইকেল করে ফিরতাম! সুভাষদা ছিলেন হিন্দুস্থান থম্পসন কোম্পানীর প্রথম ভারতীয় ম্যানেজিং ডিরেক্টর ! 



ডাক্তার হিসেবে মহান ছিলেন এছাড়াও তাঁর নিজের জীবনে অনেকগুলো গুণ  ছিলো অনেকে হয়তো তা জানেন না ! এবার সেই গুলো নিয়ে লিখবো ! ওনার শালা ছিলেন ভারতের স্টাটিস্টিকের একজন মহান কিং বদন্তী স্বর্গীয়  প্রশান্ত চন্দ্র মহানবীশ যিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইন্সটিটুট, বরানগর, কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা, যাকে বলা হয় ফাদার অফ ইন্ডিয়ান স্যাটিস্টিক! বিহারে গিরিডি শহরে (বর্তমানে ঝাড়খন্ড ) তাঁর বিরাট বড় সংস্থান ছিল আমি ওনার স্ত্রী শ্রীমতি রানী মহানবীস কে ওখানে দেখেছি  !

মানুষ হিসেবে কাকাবাবু ভীষণ রসিক ছিলেন যেহেতু আমি বেশ কাছ থেকে ওনার  সংস্পর্শে এসেছি বলে কয়েকটা ঘটনা আপনাদের লিখে জানাই! বাবার জ্বর হয়েছিল ইনজেকশন  চলছিল, বিকেলে কাকাবাবুর বাড়ী গেলাম, গিয়ে বললাম বাবার ইনজেকশন সেস হয়ে গেছে।  উনি বললেন সেস হয়ে গেছে নয় শেষ হয়ে গেছে মুখটা বড় করে বললেন শ এবং বললেন বাইরে গিয়ে অভ্যেস করো! ভাবতে অবাক লাগে যে জীবনে কখন  সস বলিনি  কথা উঠলে ৫০/৬০ বছর পরেও আগেকার ঘটনায় কাকাবাবুর কথা মনে পড়ে !

আরেকটা ঘটনা লিখে জানাই, তখন কলেজে পড়ি ১৯৬০ দশকের ঘটনা, স্বাস্থ্য  বর্ধনের জন্য বিকেলে কলেজের জিমে যাই, কিছুদিন ধরে পিঠে ব্যথা হচ্ছিলো একদিন ওনার রুগী দেখার চেম্বারে হাজির হলাম পুরো ঘর ভর্তি রুগীর ভীড়, আমার কাছে আসার কারণ জানতে চাইলেন সব বুঝিয়ে জানালাম আমাকে জামা খুলে ব্যায়াম করে দেখতে বললেন তারপর ছবিনাথ কে কাগজে লিখে বললেন একে বুঝিয়ে দাও ! ছবিনাথ আমাকে কাগজে লেখা ইংরেজি প্রেসক্রিপশন দেখালো তার বাংলা মানে হয়  নেই অসুখ নেই ঔষধ! একজন ওখানে উকিল বসে ছিল তাঁকে জিগ্যেস করলেন তুমি কখনো মক্কেল কে বলো যে  মকদ্দমাতে হেরে যাবে ফরিয়াদ করোনা উকিল বললো বলি. তখন পেছন থেকে আরেকজন বললো উঠলো মিথ্যে কথা বলছে !

কাকাবাবুর গরীব লোকের উপর কতযে দান ছিল এবং কতজন কে  কন্যাদায় থেকে মুক্ত করতে  সাহায্য করেছেন তাঁর কোন হিসেব নেই ! লোকে অপরিচত হয়েও বাবার কাছে আসতেন হয় তাঁর রুগ্ন বা অসুস্থ কাউকে দেখাবার জন্য বা আর্থিক সাহায্যের জন্য, বাবাকে উনি খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং কেউ সঙ্গে গেলে খালি হাতে ফিরতেন না ! বাবা আমার ওনার সাহায্যে কন্যাদান পর্যন্ত করেছেন !

সামাজিক দিকদিয়ে  পাটনাতে ওনার অনেক অবদান  আছে ! মেয়েদের জন্য রাজেন্দ্র নগর পাটনাতে  রবীন্দ্র  বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন ! হার্ডিং পার্কের কাছে পাটনাতে রবীন্দ্র ভবন পেক্ষা গৃহ স্থাপন করেন ! এখন ট্রাস্টিরা দেখা শুনা করেন !

          কাকাবাবুর বিষয়  বেশ কমই লোক জানেন যে উনি একজন ভালো শখের শিকারী ছিলেন! ষাটের দশকে শিকারের এতো নিয়ম কানুন ছিল না এবং চারিদিকে বিস্তীর্ণ জঙ্গল ছিল আর কিছু নাহোক হরিণ নিশ্চই পাওয়া যেত ! আমাদের গ্রামের পূর্ব বাংলার বরিশালের এক জ্যেঠা  ছিলেন স্বর্গীয় হীরালাল দাস গুপ্ত। উনি একসময় ওরিয়েন্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানির সেক্রেটারী ছিলেন ন্যাশনালইজেশন হবার আগে খুব ভালো শিকারী ছিলেন কলকাতার যাদবপুর সেন্ট্রাল রোডে ৪৫নম্বর বাড়ীটা ওনার ছিল ! পাটনাতে এলে আমাদের বাড়ীতে উঠতেন ! শিকার সম্মন্ধে অনেক গল্প লিখেছেন এবং  হাতিতে বসে বাঘ শিকার করেছেন! কাকাবাবু ওনার সঙ্গে দল নিয়ে একতারা, নবাদাতে বহুবার হরিণ শিকার করেছেন আর আমরা মজা করে হরিণের সুস্বাদু মাংস খেয়েছি !

 

                                          

Sunday, September 13, 2020

বিদ্যাসাগর মহাশয়ে’র আম ও কাঠ বাদাম গাছ: অরিন্দম ভৌমিক

 

বিদ্যাসাগর মহাশয়ে’র আম ও কাঠ বাদাম গাছ

অরিন্দম ভৌমিক (midnapore.in)

প্রথম পর্ব

কি করেছেন? কেন বিখ্যাত? এইসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়াই কিছু মানুষের নাম আমাদের মনে ছোটবেলা থেকেই গেঁথে যায়।

তাঁদের মধ্যে অন্যতম ঈস্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

একটু বড় হয়ে, সম্ভবত স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে তাঁর সম্পর্কে জানলাম। কিন্তু সেটা ছিল শুধু জানার জন্য জানা, তার মধ্যে কোন উপলব্ধি ছিল না। অবশ্য তাঁকে সম্পূর্ণরূপে বোঝার ক্ষমতা কোনোদিন হবে কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

২০০৭ সালে, "মিডনাপুর-ডট-ইন" এর কাজ করতে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে নতুন করে পড়তে শুরু করলাম। তখন যে বিষয়টি আমাকে সবথেকে নাড়া দিয়েছিল তা হল - "কার্মাটাঁড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যাওয়া"। যে ব্যাক্তি তাঁর জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত আমাদের উন্নতির জন্য ব্যায় করেছিলেন, সেই তাঁকেই নির্বাসনে যেতে বাধ্য করেছিলাম আমরা। এই ব্যাপারটা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনি।

এরপর কেটে গেছে অনেকগুলি বছর বিদ্যাসাগরে'র জন্মদিন ও প্রয়াণদিবস এলেই মনের ভেতর সেই ক্ষতটা নাড়া দিয়ে ওঠে। দিনগুলি পেরিয়ে গেলে আবার ভুলে যাই। দেখতে দেখতে এসে গেল ২০১৯ সাল, অর্থাৎ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপনের বছর। বছরের শুরু থেকেই মনটা ছটপট করছিল। মনে হচ্ছিল কোন ভাবে যদি তাঁকে ফিরিয়ে আনা যেত তাঁর জন্মভূমিতে।  

একদিন মেদিনীপুরের খুব কাছেই কংসাবতী নদীর তীরে একটি নার্সারি থেকে গাছের চারা আনতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় এল বিদ্যাসাগর তাঁর জীবদ্দশায় বহু বৃক্ষ রোপন করেছিলেন। তাঁর নিজের হাতে লাগানো আম গাছ এখনো কার্মাটাঁড়ে আছে। স্থানীয়রা সেই গাছের আম প্রসাদ মনে করে নিয়ে যান। শুধু কার্মাটাঁড়েই নয় তাঁর নিজের হাতে লাগানো একটি বিশাল কাঠ বাদাম গাছ (Sterculia foetida) বীরসিংহেও রয়েছে।

     বিদ্যাসাগর মহাশয় এতটাই বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন যে বীরাসিংহে তাঁর পিতামহীর লাগানো একটি অশ্বথ বৃক্ষ বাঁচানোর জন্য আদালতে মোকদ্দমা পর্যন্ত লড়েছিলেন। ঐ গাছের ঝামেলায় অতিষ্ঠ হয়ে একদিন বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সহোদর শ্রী সম্ভুচন্দ্র বলেছিলেন "আমি ওসব হাঙ্গামে থাকিতে ইচ্ছা করিনা"। সম্ভুচন্দ্রের কথা শুনে বিদ্যাসাগর মহাশয় প্রচন্ড রেগে গিয়ে ভাইকে বলেছিলেন - "তুই মর্ তাহা হইলে আমি স্বয়ং লাঠি হাতে করিয়া গাছের তলায় দাঁড়াইয়া ঐ গাছ রক্ষা করিব।" শেষ পর্যন্ত সেই অশ্বথ গাছ রক্ষাও করেছিলেন তিনি।

এই সমস্ত ঘটনা মাথায় আসতেই ঠিক করে ফেললাম, যেভাবেই হোক বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মদিনে কার্মাটাঁড়ে'র সেই আম গাছের চারা তৈরী করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জায়গাগুলিতে। করতে পারলে কিছুটা হলেও শান্ত হবে মন। এই ভেবে আনন্দ পাবো যে তাঁর প্রতিষ্ঠিত গাছের মাধ্যমেই ফিরিয়ে আনলাম তাঁকে।

কিন্তু সমস্যা হল কার্মাটাঁড়ে'র সঙ্গে কোন যোগাযোগ ছিল না আমার। এদিকে সময় খুবই কম কারণ মে মাস চলছিল, জুনের মধ্যে না গেলে আর আম পাওয়া যাবে না। এটুকু জানতাম যে ঝাড়খন্ড তৈরী হওয়ার আগে পর্যন্ত কার্মাটাঁড়ে বিদ্যাসাগরে'র বাড়ির দেখভাল করছিলেন "বিহার বেঙ্গলী এসোসিয়েশন"। প্রত্যেক বছর মুজাফ্ফরপুরে শহীদ ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে, বিহারের সঙ্গে যোগাযোগটা আমার ভালোই হয়েছিল। তাঁরাই আমাকে বিশ্বনাথদেব বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। বিশ্বনাথদেব বাবু আলাপ করিয়ে দেন সুনির্মল দাস বাবু ও এস এন সিনহা বাবু'র সঙ্গে। যাঁদের নাম উল্লেখ করলাম তাঁরা এতটাই ভাল মানুষ যে আপনাদের সঙ্গে আলাপ না করিয়ে দিলে বিশ্বাস করবেন না। আমার পরিকল্পনা শুনে সবাই সমস্ত রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। কার্মাটাঁড় যাওয়ার আগের দিন পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেক দিনই বিশ্বনাথ বাবু ও সুনির্মল বাবুর সঙ্গে আমার কথা হত।

 


 সবকিছু ঠিকঠাক করে অবশেষে জুন মাসের ১৪ তারিখ রওনা দিলাম কার্মাটাঁড়। মেদিনীপুর স্টেশন থেকে খড়্গপুর-আসানসোল-প্যাসেঞ্জার ট্রেন ছাড়লো ৬.২০ তে। এই ট্রেনে রিজারভেশন করা যায় না, দরকারও হয় না। ট্রেনে উঠেই বসার জায়গা পেয়ে গেছিলাম। মেদিনীপুর থেকে কার্মাটাঁড় যাওয়ার সরাসরি কোন ট্রেন নাই, হাওড়া হয়ে যাওয়াটাও অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আপনি মেদিনীপুরে (MDN) সকাল ৬.২০ তে KGP ASN PASS (68043) ধরুন, ৯.৫৮ তে জয়চন্ডী পাহাড় স্টেশনে (JOC) নেবে পড়ুন। সেখান থেকে ১০.৫৩ তে TATA DNR EXP (18183) -এ চেপে, দুপুর ১.১৩ মিনিটে কার্মাটাঁড় স্টেশন, যার বর্তমান নাম বিদ্যাসাগর স্টেশন (VDS)।  

যাইহোক চন্দ্রকোনা, বাঁকুড়া, আদ্রা পেরিয়ে ঠিক সময়ে আমার ট্রেন জয়চন্ডী পাহাড় পৌঁছে দিল। হাতে সময় ছিল তাই স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে পাহাড় দেখলাম, স্টেশনটিও বাইর থেকে দেখতে সুন্দর। একটু দেরিতে এল আমার ট্রেন টাটা-দানাপুর এক্সপ্রেস, ট্রেনে উঠে দেখলাম খুব ভিড়। আমার রিজারভেশন ছিল, কোন মতে নিজের জায়গায় গিয়ে বসলাম (রিজারভেশন ছাড়া কোনভাবেই এই ট্রেনে যাবেন না)। প্রচন্ড গরম হওয়া সত্ত্বেও কেন জানিনা আমার বেশ ভাল লাগছিল। বার্নপুর, আসানসোল, চিত্তরঞ্জন পেরিয়ে ট্রেন যখন জামতাড়া পৌঁছল আমি আর বসে থাকতে পারলাম না, উত্তেজিত হয়ে উঠে এলাম দরজার কাছে - কারণ পরের স্টেশন "বিদ্যাসাগর"।

বিদ্যাসাগর রেলওয়ে স্টেশন (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)


জামতাড়া ছাড়ার পরে দরজায় দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনের দিকে তাকিয়েছিলাম, দূর থেকেই বুঝতে পারলাম স্টেশনের হলুদ রঙের বোর্ড। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে লাগল হলুদ রঙের উপরে বড়ো বড়ো কালো অক্ষরে লেখা "विद्यासागर"। আরো সামনে আসতে দেখলাম হিন্দি, ইংরেজি, উর্দুর সঙ্গে বাংলাতেও লেখা রয়েছে "বিদ্যাসাগর"। 

বিদ্যাসাগর রেলওয়ে স্টেশন (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)


ট্রেন থেকে নেমে দেখলাম ছিমছাম, সাজানো-গোছানো সুন্দর ছোট্ট স্টেশন, অন্যান্য ভাষার সঙ্গে সাঁওতালিতেও এনাউন্সমেন্ট হচ্ছে। 

বিদ্যাসাগর রেলওয়ে স্টেশন (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)


স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্টের অফিসের পাশেই বিদ্যাসাগর -এর একটি বিশাল ছবি রয়েছে। ছবিতে তিঁনি বই হাতে একটি কাঠের চেয়ারে বসে রয়েছেন, দেখে মনে হচ্ছে তিঁনিই স্টেশনটির দায়িত্ব নিয়ে সবকিছু তদারকি করছেন। সবথেকে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল, স্টেশনের দেওয়ালগুলিতে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলি শিল্পীর তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 




বিদ্যাসাগর রেলওয়ে স্টেশন (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)


১৯৭৮ সালে এই স্টেশনের নাম রাখা হয় "বিদ্যাসাগর"। যেদিকেই তাকাই "বিদ্যাসাগর" -এর নাম। উত্তেজনা তো ছিলই, সবকিছু দেখে মনটা এক অদ্ভুত আনন্দে ভরে গেল। মনে মনে ভারতীয় রেল'কে ধন্যবাদ জানালাম।

বিদ্যাসাগর রেলওয়ে স্টেশন (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)



স্টেশন থেকে বেরিয়ে বামদিকে কয়েক পা এগোলেই আপনার ডান দিকে দেখতে পাবেন একটি স্টেট ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্ক পেরিয়ে ডানদিকের রাস্তায় একটু গেলেই দেখতে পাবেন "নন্দন কানন" -এর গেট। আপনাদের তো বলাই হয়নি, বিদ্যাসাগর মহাশয় তাঁর এই বাড়ির নাম রেখেছিলেন "নন্দন কানন"। (১৮৭৩ সালে তিঁনি এই বাড়িটি কিনেছিলেন। "নন্দন কানন" -এর কাহিনী আরেকদিন শোনাব।)

     ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম হাঁসি মুখে এগিয়ে আসছে 'জিতেন্দর মণ্ডল'। জিতেন্দরই এখানকার কেয়ারটেকার, দুই ছেলে ও স্ত্রী কে নিয়ে থাকে (এখন তারা এখানে নেই, গ্রামের বাড়িতে গেছে)। এই বিশাল ক্যাম্পাসের সমস্ত দায়িত্ব সে একলা হাতেই সামলায়। ক্যাম্পাসে ঢুকেই আমি এদিক-ওদিক দেখতে শুরু করায়, জিতেন্দর বলল - "এই গরমে এতদূর থেকে এসেছেন, আগে স্নান-খাওয়া-দাওয়া করে বিশ্রাম নিন বিকেলে সব দেখবেন"। আমি দেখলাম কথাটা খারাপ বলেনি জিতেন্দর।


জামসেদপুর অতিথি ভবন  (কর্মাটাঁড়, ঝাড়খন্ড)


জিতেন্দর আমাকে সব ধরণের রুম দেখাল, যেহেতু অন্য কোন অতিথি নেই তাই যেখানে খুশি থাকার অনুমতি ছিল আমার। মূলত দুটি অতিথিশালা রয়েছে। মূল অতিথিশালাটি একটি দ্বিতল বড় বিল্ডিং যেখানে রান্না হয়, খাওয়া হয়, রুমের সংখ্যাও অনেক (জিতেন্দর এখানেই থাকে)। অপরটি একতলা দুই রুম বিশিষ্ট অতিথিশালা। আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিলাম, কারণ এটি বিদ্যাসাগর মহাশয় যেখানে পড়াতেন তার খুব কাছে। অতিথিশালাটির নাম "জামশেদপুর অতিথি ভবন", কারণ জামশেদপুর বেঙ্গলী এসোসিয়েশনের সদস্যদের অনুদানে এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে।

স্নান সেরে নিয়ে সুনির্মল বাবু ও বিশ্বনাথ বাবুকে ফোন করে সব জানালাম। উনারা সকাল থেকে অনেকবার ফোনে খবর নিচ্ছিলেন - কোথায় আছি? কত দূর পৌঁছলাম ? ইত্যাদি। আগামীকাল সকালে পাটনা থেকে এসে পৌঁছবেন এস. এন. সিনহা বাবু। উনিই আনুষ্ঠানিক ভাবে আমগুলি আমার হাতে তুলে দেবেন। বিকেল বেলায় জামতাড়া থেকে আসবেন দেবাশিস মিশ্র বাবু।

(এই সেই জায়গা, যেখানে বসে বিদ্যাসাগর মহাশয় সবাইকে পড়াতেন)


বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বাড়ী।


স্নান-খাওয়ার পরে ঘরের মধ্যে মন টিকলো না, তাই বিশ্রাম নেওয়া আর হল না। বখাটে ছেলের মত দুপুর বেলায় ঘুরে-বেড়ালাম "নন্দন কানন" -এর আনাচে কানাচে। দাতব্য চিকিৎসালয়, প্রাইমারি স্কুল, গাছের তলায় যেখানে তিনি পড়াতেন, তাঁর গৃহ - তবে সব থেকে বেশি সময় কাটালাম আম গাছের নিচে। আনুমানিক ১৪৫ বছর আগে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিজের হাতে লাগানো "কিষান ভোগ" আমে'র গাছ। আমগুলি খুবই মিষ্টি কিন্তু প্রত্যেক বছর হয় না, ১ বছর ছাড়া আম হয়। অনেক কষ্ট করে কিছু আম পাড়লাম।

বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিজের হাতে লাগানো "কিশানভোগ" আম গাছ




বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিজের হাতে লাগানো "কিশানভোগ" আম গাছ


বিকেল বেলায় জিতেন্দর ও আমি চা খাচ্ছিলাম, এমন সময় ফোন এল দেবাশিস বাবুর। উনি বিশেষ কারণে আসতে পারছেন না, কিন্তু একটি বই উনার কাছ থেকে নেওয়া খুবই দরকার। তাই আমিই তড়িঘড়ি ট্রেন ধরে রওনা দিলাম জামতাড়া, কারণ রাত্রে ফেরার ট্রেন খুব একটা নেই। জামতাড়া পৌঁছে দেখলাম দেবাশিস বাবু বই হাতে স্টেশনেই অপেক্ষা করছেন। একটি গাছের তলায় বসে, মাটির ভাঁড়ে চা'য়ে চুমুক দিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিলাম অনেকটা সময়। দেবাশিস বাবুই ফেরার ট্রেনে তুলে দিলেন। "নন্দন কাননে" ফিরতে বেশ রাত হয়ে গেছিল, তাই ফিরেই খেতে বসে গেলাম। জিতেন্দরে'র রান্নার হাত খুব ভাল, খাওয়ার শেষে আবার "কিষান ভোগ" আম। রাত্রে অনেক্ষন বিদ্যাসাগরের মূর্তির কাছে বসেছিলাম, চারদিকে গুটঘূটে অন্ধকার, নিস্তব্ধতা চিরে মাঝেমধ্যে ট্রেনের আওয়াজ। ঘরে ফিরে বিছানায় শুয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আমি সাধারণত দেরিতেই উঠি, কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ভোর বেলায় ঘুম ভেঙে যায়। জিতেন্দরকে বলাই ছিল আমি ব্রেকফাস্ট বাইরে করব। তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়লাম, সঙ্গে নিলাম জিতেন্দরের বাইক। প্রথমেই গেলাম স্টেশনের ঐপারে নবনির্মিত বিদ্যাসাগর পার্ক দেখতে। ভারতীয় রেল নির্মিত পার্কটির মধ্যে বিদ্যাসাগর -এর একটি মূর্তিও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পার্ক থেকে বেরিয়ে ২ গ্লাস ছাতুর শরবত খেলাম। তারপর রওনা দিলাম ৯ কিমি দূরে একটি গ্রামে (এই গ্রামের গল্প অন্য একদিন শোনাব)। সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করলাম, সাহায্য করলেন বাচ্চু রাওয়ানি, পরিমল বাল এবং বলবীর ঠাকুর। ফেরার সময় সবাই মিলে চা'য়ের সঙ্গে জমিয়ে গরম পকোড়া ও জিলিপি খেলাম।

"নন্দন কাননে" ফিরে এসে আবার লেগে পড়লাম আম পাড়তে ও আমের আঁটি সংগ্রহ করতে। কিছুক্ষন পরেই এসে পৌঁছলেন এস. এন. সিনহা বাবু। সিনহা বাবু স্টেট ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ কর্মচারী ছিলেন, একসময় এথেলেটিক্সে জাতীয় স্তরে বিহারের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। উনার কাছেই শুনলাম নন্দন-কানন পুনরুদ্ধারের কাহিনী। 

আমার হাতে আমগুলি তুলে দিচ্ছেন এস. এন. সিন্‌হাবাবু




জিতেন্দ্র মন্ডল এর সঙ্গে


এরপর সেই বটগাছের নিচে বিদ্যাসাগর (মূর্তি) কে সাক্ষী রেখে আমার হাতে আমগুলি তুলে দিলেন সিনহা বাবু। স্নান করে একসঙ্গে খেতে বসলাম - ডাল, তরকারি, রুই মাছের ঝোল, স্যালাড এবং খাওয়ার শেষে অবশ্যই কিষান-ভোগ আম। অবশেষে ফেরার পালা, কিছুক্ষন বিশ্রাম নিয়ে বিদ্যাসাগর মহাশয়কে প্রণাম করে রওনা দিলাম মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে।

দ্বিতীয় পর্ব

 

'আম' এসে গেল মেদিনীপুর। কয়েকদিন ধরে চলল আমের আঁটি শুকনো করা, তারপর মাটি তৈরি করে চারা তৈরির কালো পলিথিনের প্যাকেটে বসিয়ে দিলাম আমের আঁটি (জুলাই মাসে)। কেন জানি না, চারা বেরোলো অল্প কয়েকটি। অগাস্ট মাসটা কেটে গেল "সবুজ ক্ষুদিরাম" অভিযানের বৃক্ষরোপন করতে করতে। যদিও মাঝে একবার বীরসিংহ গিয়ে দিলীপ ব্যানার্জী বাবুর (বিদ্যাসাগর -এর জন্মভিটের তত্ত্বাবধায়ক) সঙ্গে কাঠ বাদাম গাছের চারা তৈরির পরিকল্পনা করে এসেছি। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই পরিকল্পনা করতে লাগলাম যে জন্মদিনে আম গাছের চারাগুলি কোথায় লাগাবো। অনেক ভাবনা-চিন্তা করে ঠিক করলাম বিদ্যাসাগর মহাশয়ে'র নিজের হাতে তৈরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগাবো গাছগুলি। 'বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়' ছাড়া তেমন প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেল মাত্র দুটি (১) ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাটাল বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয় ও (২) ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাসুদেবপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ (অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায়)। ঠিক করলাম এই তিনটি জায়গাতেই লাগানো হবে আম গাছ, তবে বীরাসিংহে গাছটি 'বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়' -এর পরিবর্তে তাঁর জন্মভিটেতেই লাগানো হবে।

১১ সেপ্টেম্বর বীরসিংহ থেকে খবর এল কাঠ-বাদাম গাছের চারা তুলে প্যাকেটে ভরতে হবে, নয়তো পরে আর তোলা যাবে না। ১৪ সেপ্টেম্বর বাইকে রওনা দিলাম বীরসিংহের উদ্দেশ্যে, সঙ্গে পেলাম কৌশিক'কে। 'বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়' -এ পৌঁছে টিচার ইনচার্জ শক্তিপদ বেরা বাবুর সঙ্গে দেখা করে কাজে লেগে পড়লাম। সঙ্গে এল একদল উৎসাহী ছাত্র। এতজন একসঙ্গে হাত লাগানোয় অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সমস্ত চারা প্যাকেটে ভরে ফেললাম। কাজের শেষে সবাই মিলে 'রসগোল্লা' খেলাম। শক্তিপদ বাবু আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি চারাগাছ তুলে দিলেন আমার হাতে। জন্মদিনে এই কাঠ-বাদামের চারাগাছ লাগান হবে কার্মাটাঁড়ে। মহা আনন্দে ফিরে এলাম মেদিনীপুর।


"বীরসিংহ ভগবতী বিদ্যালয়" - এর ছাত্রদের সঙ্গে 



শক্তিপদ বেরাবাবু অনুষ্ঠানিক ভাবে একটি কাঠবাদাম গাছের চারা তুলে দিচ্ছেন।


২০ সেপ্টেম্বর আবার বাইকে রওনা দিলাম আম গাছের চারা নিয়ে। প্রথমেই বীরাসিংহে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মভিটেতে পৌঁছে একটি চারা গাছ তুলে দিলাম দিলীপ বাবুর হাতে। সেখান থেকে সোজা 'ঘাটাল বিদ্যাসাগর উচ্চ বিদ্যালয়', চারাগাছ তুলে দিলাম প্রধানশিক্ষক সুব্রত মাইতি মহাশয়ের হাতে। পরবর্তী গন্তব্যস্থল বাসুদেবপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ, এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিয়কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় খুব উৎসাহের সঙ্গে চারাগাছ হাতে তুলে নিলেন। চারাগাছগুলি আগেই পৌঁছে দিলাম কারণ জন্মদিনে আমরা ব্যাস্ত থাকবো তিনটি জায়গায় - প্রথমে মেদিনীপুর শহরে, তারপর বীরসিংহ এবং সব শেষে পৌঁছব কার্মাটাঁড়ে। জন্মদিনে চারাগাছগুলি প্রধানশিক্ষকরাই নিজ নিজ স্কুলে লাগাবেন।

 

বীরসিংহ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মভিটেতেদিলীপ ব্যানার্জী মহাশয়ের হাতে আম গাছ তুলে দেওয়া হল



'ঘাটাল বিদ্যাসাগর উচ্চবিদ্যালয়'- এর প্রধানশিক্ষক সুব্রত মাইতি মহাশয়ের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া হল।

'বাসুদেবপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ'-এর প্রধান শিক্ষক অমিয়কান্তি  বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া হল।



বিশেষ কারণবশত প্রথম আমগাছটি জন্মদিনের দুদিন আগে অর্থাৎ ২৪ তারিখ বীরাসিংহে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মভিটেতে লাগানো হয়। চারাগাছটি লাগান ঘাটালের বিধায়ক শঙ্কর দলুই মহাশয়। বাকি গাছগুলি স্কুল কর্তৃপক্ষ ২৬ তারিখ অর্থাৎ জন্মদিনের দিনই লাগান। আমরা ঐ দিন ভোর থেকে মেদিনীপুর শহরে কর্মসূচি শুরু করি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রথমে বিদ্যাসাগর স্মৃতিমন্দিরে ও LIC চত্ত্বরে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করা হয়। মাল্যদানের পরে বাইক রেলি করে শহর পরিক্রমা করি আমরা। এরপর মেদিনীপুর থেকে সোজা বীরসিংহ। বীরাসিংহে শ্রদ্ধা জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম কার্মাটাঁড়ে'র উদ্যেশ্যে। যখন পৌঁছলাম তখন রাত্রি ১২ টা বাজতে বেশি দেরি নাই। সুনির্মল বাবু যে রাস্তায় কতবার ফোন করেছিলেন তার কোন হিসেবে নাই। খুব দ্রুততার সঙ্গে গাছ আয়োজন করলাম কারণ দিন শেষ হওয়ার আগেই লাগাতে হবে। অবশেষে "নন্দন কাননে" লাগানো হল সেই কাঠ-বাদামে'র গাছ। শুধু "নন্দন কাননেই" নয়, পরের দিন ফেরার সময় বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত St Anthony School এর বিদ্যাসাগর পাঠাগারেও ঐ কাঠ-বাদামের চারা লাগালেন শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী দুর্গাদাস ভান্ডারী (জন্মদিন উদযাপনের বিস্তারিত কাহিনী আরেকদিন শোনাব)।

    পরবর্তী সময়ে কিছু স্কুলে লাগানো হয়েছিল ঐ কাঠ-বাদাম গাছের চারা। দেখতে দেখতে ১০ মাস পার হয়ে এল তাঁর ১৩০ তম প্রয়াণ দিবস। বিদ্যাসাগরের মৃত্যু হয় ১৮৯১ সালের ২৯ শে জুলাই, রাত্রি ২টো ১৮ মিনিটে। রাত ১২টা পেরিয়ে যাওয়ায় তারিখটা আসলে ৩০ শে জুলাই। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে "মিডনাপুর-ডট-ইন" এর উদ্যোগে ৩০ তারিখ ঠিক রাত্রি ২টো ১৮ মিনিটে ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরের বুকে রোপন করা হল সেই কাঠ-বাদাম গাছের চারা।

 

২০২০ সালের ৩০জুলাই রাত্রি ২টো ১৮ মিনিটে ঐতিহাসিক মেদিনীপুর শহরের বুকে রোপন করা হল সেই কাঠ বাদাম গাছের চারা।


আপনিও যদি কোন প্রতিষ্ঠানে এই চারাগাছ লাগাতে চান
, তাহলে অবশ্যই জানাবেন।

জানি পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোনদিন ফিরে আসবেন না।

কিন্তু নতুন প্রজন্মকে যদি তাঁর আদর্শ ও চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত করা যায়, সেটাই বা কম কি ?  

 

বেঙ্গল এসোসিয়েশন, দিল্লি : ৪৫ তম বাৎসরিক সাধারণ সভা

৪৫ তম বাৎসরিক সাধারণ সভা


বেঙ্গল এসোসিয়েশন, দিল্লি  ৪৫ তম বাৎসরিক সাধারণ সভা।  আগামী ৪ঠা অক্টোবর রবিবার বিকেল ৫ টা। সবাইকে বিশেষ আমন্ত্রণ রইলো।



প্রফুল্ল চন্দ্র দাস প্রয়াত

 

প্রফুল্ল চন্দ্র দাস

 


গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাই আমাদের ফরবেশগঞ্জ বিহার বাঙ্গালী সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শ্রী প্রফুল্ল চন্দ্র দাস গতকাল দিল্লির বাসভবনে পরলোকগমন করেন। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বৎসর সুচারুভাবে অধ্য ক্ষের পদ শোভিত করেন। তিনি বিহার সরকারের PEO post থেকে অবসরের পর আমাদের সমিতির সভাপতি ও ফরবেশগঞ্জ শহরের RSS র সঞ্চালক পদে অধিষ্ঠিত হন।

       তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর শাশ্বত আত্মার শান্তি কামনা করি শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা।

প্রতিবেদক - প্রণব কুমার দাস

প্রয়াত সমাজকর্মী বেণীমাধব লায়েক

 প্রয়াত সমাজকর্মী বেণীমাধব লায়েক



সমাজ কর্মী বেণীমাধব লায়েক আমাদের ছেড়ে চিরতরের জন্য ঘুমের দেশে চলে গেলেন। শুক্রবার রাত্রে তার নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।মৃত্যকালে বয়েস হয়েছিল ৯২ বছর। বিহার সরকারের শিক্ষা বিভাগে আধিকারিক পদে কর্ম জীবন শুরু করেন, ভাগলপুর জেলায়। সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার জন্য চাকুরী ত্যাগ করেন। পরে দুমকা জেলার সাদিপুর এর মিডিল স্কুলে প্রধান অধ্যাপক পদে যোগদেন। দীর্ঘ দিন সাদিপুর ও রানিবহাল এর মিডিল স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর দীর্ঘদিন সামাজিক কাজের মধ্যে দিয়ে সমাজে ছাপ ছেড়ে গেছেন। রানিশ্বরে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী দের সঙ্গে গড়ে তোলেন জয়ন্তী গ্রন্থাগার। ময়ূরাক্ষী গ্রামীণ ডিগ্রি কলেজের সচিব পদে দীর্ঘদিন থেকে এখন কার উচ্চ শিক্ষার উন্নয়নে সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঝাড়খন্ড রাজ্য গঠনের পর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি, ঝাড়খন্ডের রানিশ্বর ব্লক কমিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন। বহুমুখী প্রতিভার বেণীমাধব বাবু এখানে উপজাতি ছেলে মেয়ে দের শিক্ষার জন্য সঞ্চালিত ভারত সেবাশ্রম এর আবাসিক বিদ্যালয়ে সচিব নিত্যব্রতানন্দ মহারাজ কে আর্থিক সাহায্য করেন।।                               

প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায়, দুমকা ।

মহান কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রের উন্মোচন

 

মহান কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রের উন্মোচন


ভাগলপুরের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি হল। গত ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ভাগলপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ‘ভাষা কৃষ্টির মিলন মেলা’ এবং ‘বিহার বাঙালি সমিতি’ বরারী এবং চম্পানগর শাখা যুগ্মভাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ভাগলপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে বাতানুকুল প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রতীক্ষালয়ে মহান কথাশিল্পী সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুটি তৈলচিত্রের উন্মোচন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন সাহিত্যিক শ্রী শিব কুমার সিংহানিয়া এবং শিক্ষাবিদ শ্রী রাজীব কান্ত মিশ্র মহাশয়গণের দ্বারা দীপ প্রজ্জ্বলন ও মাল্যদান করে আরম্ভ করা হয়। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ভারতীয় রেলের পদকর্তারা, ভাষা কৃষ্টির মিলন মেলা তরফ থেকে মহাসচিব শ্রী দেবাশীষ ব্যানার্জি এবং কনভেনার শ্রী তাপস ঘোষ। শ্রী তাপস ঘোষ বিহার বাঙালি সমিতির যুগ্ম সম্পাদক। বরারী  শাখার তরফ থেকে প্রেসিডেন্ট তরুণ ঘোষ, চম্পানগর শাখার তরফ থেকে শ্রী সুব্রত আচার্য্য, শ্রীমতি মনিকা আচার্য্য, শ্রী কালিদাস চ্যাটার্জী এবং শ্রীমতি কাকলি ব্যানার্জি এবং শ্রী সুবোধ কুমার ভৌমিক। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিকট আত্মীয় শ্রী শান্তনু গাঙ্গুলী, ভাগলপুর রং মহোৎসব  সমিতির তরফ থেকে শ্রী দীপক মন্ডল, ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিনিধি শ্রী রওশন কুমার এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


আজকের অনুষ্ঠানের সম্মিলিতভাবে নির্ণয় নেওয়া হয় যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুটি প্রস্থরশিলা, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পথের প্রারম্ভিক স্থানে এবং দ্বিতীয়টি পথের শেষ প্রান্তে বসানো হবে।

খুব শীঘ্রই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি মর্মর মূর্তির স্থাপন ভাগলপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে করা হবে যার অনুমতি ডি. আর. এম, মালদা কাছ থেকে আগেই নেওয়া হয়েছে।


তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় যে বাঙালি টোলা, মসাকচক এর কাছে একটি ভব্য শরৎ দুয়ার স্থাপনা করা হবে যার এন.ও.সি, ভাগলপুর মিউনিসিপ্যালিটি থেকে আগেই নেওয়া হয়েছে এবং একটি প্রস্থরশিলা স্থাপনা সেই সময় কার ডি.এম ও স্থানীয় পার্ষদ দ্বারা স্থাপন করা হয়।

শ্রী তাপস ঘোষ মহাশয় এর অক্লান্ত পরিশ্রমে তার বহুদিনের স্বপ্ন আজকে বাস্তবে পরিণত হলো।

 প্রতিবেদন - সুবোধ কুমার ভৌমিক, সহ সভাপতি, জোন - ২

অন্য এক অনন্যসুলভ অভয়ারণ্য ! : সুপ্রিয় মুখার্জি (সাহেব)

 

অন্য এক অনন্যসুলভ  অভয়ারণ্য !

ইউরোপে মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ আইসল্যান্ড, দেশটিকে বলা হয় স্বপ্নের মত সুন্দর একটি দেশ। প্রত্যেক বছরেই নানান দেশ থেকে পর্যটকেরা ওখানে ভ্রমণ করতে যান। বিশেষ করে তারা ওখানকার বিখ্যাত ডলফিন দেখতে খুব ভালবাসেন। আইসল্যান্ড এর সমুদ্রতীরের নানা ধরণের ডলফিন ইউরোপ ও আমেরিকান পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে।

না, আজকে আইসল্যান্ড বা ওখানকার ডলফিণের কথা বলতে আসিনি, আজ আপনাদের বলব যা অনেকের কাছে অজ্ঞাত পরিচয়.... তা হল আমাদের দেশের ডলফিনদের কথা। অন্য দেশ তো দূরের কথা ভারতবর্ষের অনেকেই হয়তো জানেননা যে এক বিশ্বমানের প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের দেশেই বিদ্যমান। বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলায় রয়েছে একটি  ডলফিন অভয়ারণ্য। ভাগলপুর জেলার সুলতানগঞ্জ থেকে কাহালগাঁও প্রজন্ত গঙ্গা নদীর ৫০ কিলোমিটার এর বিস্তার। নদীর এই বিস্তরণ এলাকা টির ১৯৯১ সালে "বিক্রমশিলা ডলফিন অভয়ারণ্য" নামে নামকরণ করা হয়। জলজ প্রাণী বিশেষজ্ঞ দের কোথায় এশিয়ায় প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া গঙ্গা ডলফিনের এটি একমাত্র সুরক্ষিত ক্ষেত্র। এই গঙ্গা ডলফিন হল ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় জলজ প্রাণী। গঙ্গা ডলফিন এর আরেক নাম 'সুসুক'।


এক সময় এই জাতীয় ডলফিন দেশে বহু সংখ্যায় দেখা যেত, এখন মাত্র কোকসো টি রয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ টাই এই অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। নদীর জল অবিরত নোংরা হতে থাকার কারণে ওদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তা ছাড়া ডলফিন শিকার এর ঘটনা খবরের কাগজে মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে।

২০০৬      সালে গঙ্গা ডলফিনকে IUCN (International Union for Conservation of Nature) দ্বারা 'Red List of Threatened Species' এর তালিকায় বিপন্ন প্রাণী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

কয়েক বছর পর, ৫ই অক্টোবর ২০০৯ এ প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের সভাপতিত্বে জাতীয় গঙ্গা নদী অববাহিকা কর্তৃপক্ষের (NGRBA: National Ganga River Basin Authority) প্রথম বৈঠকে গঙ্গা ডলফিনগুলিকে ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী হিসাবে ঘোষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

       গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে নেমে যখন গঙ্গা সমভূমিতে প্রবেশ করে তার জল মারাত্মকভাবে দূষিত হতে থাকে এবং পবিত্র নদীটি ক্রমশ ময়লাযুক্ত তরলে পরিণত হয়।

কিন্তু নেপাল থেকে নেমে আসা ঘাগড়া, গন্ডাক এবং কোশি এই তিনটি নদীর প্রবাহ গঙ্গা নদীর জলকে পুনরায় নবীন এবং সতেজ জীবন দিয়ে থাকে।

আধুনিক সভ্যতার অত্যাচারের পর আবার নদীটি নতুন করে তৈরি হয়, এবং তারপর স্বচ্ছপ্রবাহ নিয়ে বিহারের প্লাবনভূমি ছাড়িয়ে বয়ে চলে। এরই মাঝে ভাগলপুরে নদীর বিস্তারণ। তত্পর পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশ এবং তারপরে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হয়ে থাকে। তার কারণেই ভাগলপুরে নদীর জল তুলনামূলক ভাবে স্বচ্ছ। আর এই জন্য এই অঞ্চল ডলফিনদের  জন্য অনুকুল।

বর্তমানে ওদের সংখ্যা এই এলাকায় প্রায় ২০০র কাছাকাছি। শহরের কয়েকটি জায়গায় নদীর তীরে এখনও মাঝে মধ্যেই উল্লম্ফন দিতে দেখা যায়। স্থানীয় মাঝিরা নৌকা নিয়ে নদী পার হওয়ার ক্রমে সুসুক দের সন্তরণ এর রমণীয় দৃশ্য উপভোগ করে থাকেন। গঙ্গা ডলফিনরা দেখতে সুরূপ হলেও তারা আমিষভুক, তাদের ডায়েট এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মাছ এবং অন্যান্য উদজ প্রাণী।

এই বিক্রমশিলা অভয়ারণ্যে অন্যান্য দুর্লভ জলজ বন্যজীবেরও সমৃদ্ধ বৈচিত্র রয়েছে, যার মধ্যে ভারতীয় উদ্বিড়াল (Lutrogale Perspicillata), গঙ্গা কুমির বা 'ঘড়িয়াল' (Gavialis gangeticus), বিভিন্ন প্রকার এর কচ্ছপ এবং ১৩৫ প্রজাতির 'জলকুক্কুট' পাখি রয়েছে।

এছাড়াও এই অঞ্চলটির বিশ্বের সবচেয়ে বড় ''বিলুপ্তপ্রায় গরুড় পাখিদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন অঞ্চল '' হওয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গরুড় (Greater Adjutant Leptoptilos Dubius) একটি কিংবদন্তি পাখি যা ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর বাহন।

অভয়ারণ্য এলাকায় বিভিন্ন সংরক্ষণের কাজ চলছে। উল্লেখযোগ্য কাজগুলির মধ্যে ডক্টর সুনীল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিক্রমশিলা বায়োডাইভার্সিটি রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টার (VBREC),  পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান গবেষণাগারের তিমি ও ডলফিন সংরক্ষণ সমিতি (WDCS), এবং ভাগলপুর বিশ্ববিদ্যালয়, একসাথে মিলে বিক্রমশিলা গঙ্গা ডলফিন অভয়ারণ্যের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি বৃহৎ প্রকল্প শুরু করেছে।

তাছাড়া কয়েক বছর আগে WWF-Indiaও গঙ্গা নদীর ডলফিনদের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার জন্য 'ডলফিন সংরক্ষণ কার্যক্রম' শুরু করেছিল।

     তাহলে বন্ধুরা অনন্যসুলভ এই বিক্রমশিলা অভয়ারণ্য এবং গ্যানজেটিক ডলফিনের মোহনীয় সৌন্দর্য দেখতে চাইলে একবার ঘুরেই আসতে পারেন সিল্ক সিটি ভাগলপুর। গ্যানজেটিক ডলফিন দেখার সেরা সময়টি হল অক্টোবর এবং জুন মাস। জুন মাসে সেখানকার তাপমাত্রা ভালই থাকে তাই অক্টোবর - নভেম্বর শ্রেষ্ঠ।

নিকটতম রেলস্টেশন 'ভাগলপুর জংশন'। হাওড়া ও শিয়ালদাহ থেকে ভাগলপুর যাওয়ার কয়েকটি ট্রেন আছে। প্রমুখ হাওড়া - জামালপুর এক্সপ্রেস ও হাওড়া - গয়া এক্সপ্রেস। কম-বেস ১০ ঘন্টার যাত্রা। ভাগলপুরে কোন সক্রিয় এয়ারপোর্ট নেই। নিকটতম পাটনা এয়ারপোর্ট। পাটনা থেকে ভাগলপুর সড়কপথে ৬ ঘণ্টার রাস্তা।

ভাগলপুরের পশ্চিমে সুলতানগঞ্জের থেকে নিয়ে ভাগলপুরের পূর্বে কাহালগাঁও পর্যন্ত অঞ্চল টির যে কোনো পরিচিত ঘাটে গিয়ে নৌকাবিলাস করতে পারেন। পুরোটাই অভয়ারণ্যের মধ্যে পড়ে। উল্লেখযোগ্য ব্যারারি ঘাট, যেখানে বিক্রমশিলা সেতু শুরু হয়।

এছাড়াও ভাগলপুরে ঘুরে দেখতে পারেন প্রাচীন বিক্রমশিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ, জৈন মন্দির, আজগুবিনাথ ধাম, বটেশ্বরনাথ মন্দির ও শান্তি বাবা ধাম, বুড়োনাথ মন্দির, রবীন্দ্র ভবন অর্থাৎ টিলহা কুঠি ও মন্দার পার্বত।

 সুপ্রিয় মুখার্জি (সাহেব)

শ্রদ্ধাঞ্জলি: পূর্ব রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি: জামালপুর শাখা

 

শ্রদ্ধাঞ্জলি: পূর্ব রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি




গত ০৬.০৯.২০২০ রবিবার বিহার বাঙালি সমিতি জামালপুর শাখা তরফ বারোয়ারি তলা প্রাঙ্গণে ভারতের পূর্ব রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি মহাশয়কে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। বিহার সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী সেলস কুমার জি প্রয়াত প্রণব মুখার্জি’র চিত্রে ফুল এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন ভগবান যেন ওঁনার আত্মাকে শান্তি দেন।

এই উপলক্ষে সমিতির সদস্য সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদক - প্রহ্লাদ ঘোষ, সম্পাদক, জামালপুর শাখা

 বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...