Sunday, August 9, 2020

পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী: বঙ্গীয় সংস্কৃতি সংসদ, পুণে

 পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী

                         ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৮২০


এই বছর বাংলা ভাষা ও বাংলা  সাহিত্যের রূপকার পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী, ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে এই বিরল বাঙালী ব্যক্তিত্বের জন্ম হয়েছিল, সুতরাং আর দু-মাসের কিছু কম সময় পরেই তাঁর জন্মের দু'শ বছর পূর্ণ হবে।

বঙ্গীয় সংস্কৃতি সংসদের পক্ষ থেকে ওই দিনটি উদযাপন করা হবে বলে স্থির করা হয়েছিল, একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে, আলোচনা সভা ইত্যাদি ভাবনার আদান প্রদান হয়েছিল, সাংস্কৃতিক কমিটি ও কার্যকরী সমিতি এ বিষয়ে সহমত ছিলেন | কিন্তু এ সমস্তই অতিমহামারীর ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতির আগের সময়ে আলোচিত।

সিদ্ধান্ত:


পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের কল্পনাকে উন্মুক্ত ও প্রসারিত করে  নিতে হয়েছে | বর্তমান অবস্থায় আমাদের আবার সেই প্রযুক্তির সাহায্য নিতেই হবে | বঙ্গীয় সংস্কৃতি সংসদের কার্যকরী সমিতি সর্ব সম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে,

সিদ্ধান্ত ১) এখন থেকে পুরো সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত একটি বা দুটি ছোট তথ্য, ছোট লেখা, ছোট আলোচনা আমরা সংসদের দুটি বুদ্ধিমন্ত চলমান দূরাভাসযন্ত্রের প্রযুক্তিমাধ্যমে প্রকাশমান মন্ডলীতে  ক্রমান্বয়ে প্রকাশ করতে থাকবো যাতে আমাদের সকলের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরী হয় এবং এই মহামানব সম্পর্কে আমরা আরো বেশী করে জানতে পারি | আমরা প্রতিদিন কিছু তথ্য পরিবেশন করবো, আপনারা সবাই এই তথ্য পরিবেশনে অংশ নিতে পারেন | কিন্তু সবসময়েই তথ্য সূত্র উল্লেখ করতে হবে এবং অন্য কোনো WA গ্রুপ থেকে কোনো যাচাই না করা তথ্য পরিবেশন করা যাবে না | অর্থাৎ information authenticity is a must. আপনারা সরাসরি তথ্য জানাতে পারেন বা শ্রীমতী মধুমিতা ঘোষ, শ্রীমতী রাখী চ্যাটার্জী,    শ্রী অরুণ চট্টোপাধ্যায় বা শ্রী শুভাশিস বাগলের কাছে তথ্য পাঠাতে পারেন |

সিদ্ধান্ত ২) আমরা সংসদের সকল সদস্যের কাছে আবেদন করছি যে, বিদ্যাসাগর জন্মদ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে যে যেমন পারবেন স্বরচিত রচনা আগামী ১০ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৈদ্যুতিন পত্রের মাধ্যমে আমাদের কাছে পাঠাবেন, সকলের রচনা সংকলিত করে আমরা একটি বৈদ্যুতিন ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবো ২৬শে সেপ্টেম্বর সকালে |

সিদ্ধান্ত ৩) ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২০ একটি নির্ধারিত সময়ে আমরা প্রযুক্তি সহায়তায় দুটি অনুষ্ঠান করবো, (ক) একটি প্রশ্নোত্তরের আসর, অংশ গ্রহণকারীদের আগেই নাম নথিভুক্ত করতে হবে, সংখ্যা যদি ১০০ জনের নীচে থাকে (নিশ্চিত ভাবে সেটাই থাকবে), তাহলে অনুষ্ঠানটি গুগুল মিট প্রযুক্তি মাধ্যমে হবে এবং (খ) একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেখানে বিদ্যাসাগরের জীবন বা তাঁর প্রভাবে প্রভাবিত একটি বা দুটি ছোট শ্রুতি নাটক, স্বল্প দৈর্ঘের আলোচনা এবং সঙ্গীতাঞ্জলি | এই ব্যাপারে শ্রীমতী মধুমিতা ঘোষের সাথে উৎসাহী জনেরা আলোচনা করে কে কি করবেন সেগুলি জানিয়ে দেবেন | সেই অনুযায়ী, শ্রীমতী মধুমিতা ঘোষ আমাদের সবাইকে এই অনুষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জানাবেন | আপনাদের সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য | আসুন আমরা এই মহাপুরুষের জীবন আলোচনা করি সবাই একসাথে, নিজেরা সম্মৃদ্ধ হই আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে আলোকিত করি |

 

 

ধন্যবাদান্তে

 

সুজাতা পাল                 শুভাশিস বাগল

সভাপতি                     সাধারণ সম্পাদক      

 

* ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিটি শিল্পী B Hudson এঁকেছিলেন নিজের আগ্রহে এবং বিদ্যাসাগর তাঁর অনুরোধে রাজী হয়েছিলেন, আনুমানিক ১৮৫১-৫২ সালে।

sansadpune@gmail.com,

sujatapaul123@rediffmail.com

subhasis_bagal@yahoo.co.in

arun.chattopadhyay2010@gmail.com ( 8805112500)

 

200 birth anniversary of Ishwarchandra Vidyasagar

26th September 2020

 

Dear Members,

 

Bangiya Sanskriti Samsad will digitally celebrate the 200 birth anniversary of Ishwarchandra Vidyasagar on 26th September 2020.

 

We hereby invite all to please submit writings (article, stories, poems, short drama etc.) on Ishwarchandra Vidyasagar. 

 

Last date of submission is 10th September 2020. We will be publishing an E-Newsletter / E-Magazine based on the number and volume of the writings we receive till the submission date. 

 

We have already started some awareness programs for this purpose in BSS WhatApp groups (2 groups). We will share those on a weekly basis in e-mail as well for all. Any member not connected in BSS WA group or left earlier and now willing to be connected with BSS WA group may kindly write to us (sansadpune@gmail.com) with your WA mobile number so that we can add you in the WA group. 

 

Your kind cooperation and support is solicited.

 

 

Warm Regards

 

 

Sujata Paul          Subhasis Bagal

President             General Secretary 

sansadpune@gmail.com,


Saturday, August 8, 2020

বাইশে শ্রাবণ: বিনম্র স্মরণে: অজয় সান্যাল, পূর্ণিয়া

বাইশে শ্রাবণ: বিনম্র স্মরণে

ঐ নীলরঙ ইনল্যান্ড খামটার কথা মনে পড়ে গেল। পূর্ণিয়ার নীতিন বন্দ্যোপাধ্যায়, আমাদের শ্রদ্ধেয় ফটুদাকে লিখেছিলেন প্রবাদ প্রতীম দেবব্রত বিশ্বাস। খামটির পেছনের দিকের পাতায় জর্জ বিশ্বাস ছবি এঁকেছিলেন। অনেক দিন আগে দেখলেও মনে আছে ছবিটা। একটি বিশাল বৃক্ষ। তার প্রচুর শাখা প্রশাখা।সেই বিরাট গাছে বসে আছে একটি কাক। পাখিটিকে গাছের তুলনায় খুবই ছোট দেখাচ্ছে। দেবব্রত লিখেছেন ‘ নীতিন বাবু ঐ বিশাল গাছটি রবীন্দ্রনাথ। গাছে বসে থাকা ছোট্ট পাখিটি আমি। আমি তাঁর আশ্রয়ে বসে আছি কিছু পাব এই প্রত্যাশায়।’

বুদ্ধদেব বসুর কাছে যাই। সঙ্গ নি:সঙ্গতা রবীন্দ্রনাথ এই বইটিতে লিখছেন  ‘কি? রবীন্দ্রনাথ নেই?

এ কি সম্ভব ? তাহলে আমাদের দু:খের দিনে কার কাছে গিয়ে দাঁড়াবো আমরা? কে আমাদের ভালবাসবেন,আমাদের শাসন করবেন? স্বদেশের সংকটের সময় কে আমাদের উপদেশ দেবেন? জগৎটাকে এনে দেবেন আমাদের দরজায়? আমাদের জীবনে ও প্রতিষ্ঠানগুলিতে অর্পণ করবেন শ্রী ও মর্যাদা ?’ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কলকাতা শহর কার্য্যত সেদিন। সমস্ত যানবাহন বন্ধ। ফুলের দোকানের ঝাঁপ ফেলা। দক্ষিণ কলকাতা থেকে কাতারে কাতারে মানুষ হাটতে হাটতে চলেছেন। গন্তব্য সকলের সেই এক জোড়াসাঁকো।একই উদ্দেশ্য সকলের অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন। চোখের দেখা। সেদিন বাইশে শ্রাবণ। ১৩৪৮। সেদিন ৭ ই আগস্ট।১৯৪১।

সত্যজিৎ রায়ের ডকুমেন্ট্রি ‘রবীন্দ্রনাথ’ শুরু হয়েছে কবির প্রয়াণ দৃশ্য দিয়ে। স্মরণ করি সেই মেঘমন্দ্র স্বরটিকে।তথ্যচিত্রের ধারাভাষ্যকার যে সত্যজিৎ। তাঁর অননুকরণীয় উচ্চারণে বলে উঠলেন

On the 7th of August, 1941, in the city of Calcutta.

A man died. His mortal remains perished. But he left behind him a heritage which no fire could consume. It is a heritage of words, of music and of poetry, of ideas and ideals. It has a power to move us, to inspire us today and the days to come. We owe him so much. Salute his memory.

৩০ শে জুলাই ১৯৪১। সেদিন কবির অপারেশন।সার্জেন ডাক্তার ললিত ব্যানার্জি। জোড়াসাঁকোর বাড়িতে। সময় সকাল ১১টা। স্বভাবতই কবির শরীর ভালো নেই। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীল মন ?

কবি সেদিন বেশ সকালে একটি বড় কবিতা লিখলেন। মুখে মুখে বলে গেলেন। রাণী চন্দ লিখে রাখলেন। সই করলেন কাঁপা হাতে - বাবামশায়। রচিত হল ‘তোমার সৃষ্টির পথ’ কবিতাটি। কবিতার বেশী অংশ সকালে লেখা। শেষ তিন লাইন সংযোজন হয় সকাল সাড়ে নটায়। অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে। সে পায় তোমার হাতে শান্তির অক্ষয় অধিকার। অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় কবিতাটি শুনতে চাইলেন। মন:পূত হল না। কিছু গোলমাল আছে। কবি বল্লেন ডাক্তাররা বলেছে অপারেশনের পর আমার মাথা আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে। ভাল হয়ে ঠিক করবখন। না ঠিক করা হয়নি।

সেদিন সকাল ১০ টা।এই কবিতাটি লেখার পর লিখলেন একটি চিঠি। পরম স্নেহের পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীকে। মুখে বলে গেলেন চিঠির বয়ান। ডিকটেশন।

একটু পরেই স্ট্রেচার এল। কবিকে নিয়ে আসা হল অপারেশন টেবিলে। লোকাল এ্যানেসথেসিয়া। ২০ মিনিট সময় লাগল সার্জারি করতে। কি দিয়ে তৈরী রবীন্দ্রনাথ ? আমি চিন্তায় পড়ে যাই। সকালে অপারেশন হবে আর সেই সকালেই সৃজন? 

২৭ শে জুলাই ১৯৪১।দিনটির কথা আপনাদের বলতে ইচ্ছে করছে।

২৫ শে জুলাই কবিকে শান্তিনিকেতন থেকে জোড়াসাঁকো নিয়ে আসা হয়। অত্যন্ত অসুস্থ, দুর্বল। কিন্তু এই অবস্থায় ২৭ শে জুলাই লেখা হল ‘প্রথম দিনের সূর্য্য প্রশ্ন করেছিল। সত্ত্বার নতুন আবির্ভাবে।

কে তুমি ?’ রাণী লিখে রাখেন। কবি বল্লেন ‘প্রত্যেকবার ভাবি ঝুলি খালি হয়ে গেল। এবারে চুপচাপ থাকি। কিন্তু পারিনে।’ সত্যিই পারেন নি। নাহলে দেখুন না। ২৯ শে জুলাই বিকেল বেলা লিখে ফেল্লেন ‘দু:খের আঁধার রাত্রি বারেবারে। এসেছে আমার দ্বারে।’ লিখে রাখেন রাণী কবির মুখে রচিত কবিতাখানি।

একটু ২৫ শে জুলাই তারিখটিকে ছোঁয়া যাক। রবীন্দ্রনাথ ভালো নেই। কদিন পরেই এসে দাঁড়াবে ৭ই আগস্ট। বেজে উঠবে কালের ঘন্টাধ্বনি। ঘড়ির কাঁটা জানান দেবে। বেলা ১২ টা বেজে ১০ মিনিট। কবিকে ২৫ তারিখ শান্তিনিকেতন থেকে চিকিৎসার জন্যে জোড়াসাঁকো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।ইজিচেয়ারে শায়িত কবি। আশ্রমিকদের চোখে জল। তারা কবির পাশে গাইছে ‘আমাদের  শান্তিনিকেতন।’ গ্রামের লোকেরা বোলপুর স্টেশনে নিয়ে যেতে কবির যাতে ঝাঁকুনি না লাগে তাই আগের রাতে রাস্তার খানাখন্দ গর্তগুলোকে ভরে বুজিয়ে দিয়েছেন।

কবি হয়ত সঙ্কেত ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন। আর কোনদিন শান্তিনিকেতন ফেরা হবে না। তাই আজ তিনি কালো পোশাকে, চোখে কালো চশমা, মাথায় কালো টুপি পড়ে আছেন। গাড়ি চলেছে বোলপুর স্টেশনে। ওখানে প্রতীক্ষারত সেলুনকার।নম্বর EIR - 2377.পাকুড় প্যাসেন্জারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রেলওয়ে বিভাগের Chief Operating Superintendent শ্রী নিবারণ চন্দ্র ঘোষ। হাওড়ায় ট্রেনটি পৌঁছয় ২ টো ৪০এ। কলকাতায় কবির আসার খবর প্রচার করা হয় নি। তাই ভীড় জমা হয়নি স্টেশনে।

একটা উত্তর পেয়ে গেলাম। কি করে তিনি রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন ? গুণীজনের বিশ্লেষণ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের মত পিতা হলে রবীন্দ্রনাথের মত ছেলে হয়। আসলে রবীন্দ্রনাথ মানেই প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা। তাঁকে জীবনের চলার পথে বিভিন্ন বয়েসে সুখে দু:খে আলো অন্ধকারে নানা রঙে পাওয়া। আমাদের জীবন যে কোন সঙ্কট মোকাবিলায় তৈরী হয়ে যায়। আমাদের একজন রবীন্দ্রনাথ আছেন। তাই না ?

তাই তো কখন যেন ২২ শে  শ্রাবণ, ২৫ শে বৈশাখ হয়ে যায়।

আসুন বিশ্বজোড়া এই সঙ্কট কালে আমরা সকলে ঐ বটগাছটির আশ্রয়ে দাঁড়াই। পবিত্র মন্ত্রের মত উচ্চারণ করি মৃত্যু জীবনের শেষ কথা নয়। জীবনই জীবনের শেষ কথা বলে।

অন্তরের শ্রদ্ধায়, প্রণামে

অজয় সান্যাল।

 


কাদের প্রভাব বিদ্যাসাগরের জীবন জুড়ে ? :অজয় সান্যাল।

 

কাদের প্রভাব বিদ্যাসাগরের জীবন জুড়ে ?

অজয় সান্যাল।

একটা উত্তর পেয়েছি এই প্রশ্নের। তাঁর মা, ঠাকুমা, ঠাকুর্দা, মায়ের মামাবাড়ি ও কিছু শিক্ষকের প্রভাব। মা ভগবতী দেবী। তাঁর মামার বাড়িতে মানুষ।সেখান থেকেই বিয়ে হয় তাঁর। সেই সূত্রেই ওটাই বিদ্যাসাগরের মামার বাড়ি। মামাবাড়ি থেকে বিদ্যাসাগর পেয়েছিলেন মানবিক বোধের দীক্ষা।তাতে মিশেছিল অতুলনীয় বুকভরা স্নেহ ভালবাসা আর সহৃদয়তা, সংবেদনশীলতার পাঠ। যে বাঙলা পৃথিবীর তাঁতঘর। সেই বাঙলাকে বেআব্রু করেছিল শিল্পবিপ্লব জাড়িত ঔপনিবেশিক শাসন। বিদ্যাসাগর বাঙালির লজ্জা ঢাকতে চেয়েছেন। ঠিক যখন ছোটরা উপযুক্ত বস্ত্র না পেয়ে স্কুল যেতে পারছে না, মহিলারা বাড়িতে মহিলারা বস্ত্রাভাবে বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না,বৃদ্ধবৃদ্ধারা অসহায়কাশীবাসী ভাবছে কে তাদের হাতে তুলে দেবে মোটা কাপড় থান।বিদ্যাসাগরের এগিয়ে আসা তাঁর দেওয়া নতুন কাপড় বুকে চেপে ধরে হাড়সর্বস্ব কাতর মানুষ একদিন কি আনন্দে বাড়ি ফিরেছে। বিদ্যাসাগর ফরাসডাঙায়। তিনি হুঁকো খেতেন। এক কুষ্ঠরোগীর সেজে দেওয়া হুঁকোয় টান দিতেই অনেকে হাঁ হাঁ করে উঠেছে ভয়ে আতঙ্কে। বিদ্যাসাগর বলছেন ‘আমার হলে কি করতাম ?’ কলেরা আক্রান্ত রোগী। তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে রাস্তায়। সেই রোগীকে তুলে এনে নিজের বিছানায় রেখে সেবা করেছেন। আমার ভাবতে ভাল লাগে আজ বিদ্যাসাগরকে নিয়ে প্রচুর গবেষণামূলক কাজ হচ্ছে।তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক ও তার মূল্যায়নের প্রচেষ্টায় লেগে আছেন পরিশ্রমী গবেষক,বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সংস্থা। আগামী দিনে তাঁর কাজের অনেক অজানা দিক সামনে আসবে আমাদের। আমরা সমৃদ্ধ হব। সেটা আমাদের সৌভাগ্য। Indian Association তৈরী হয় ১৮৭৬ সালে। উদ্যোগ নিয়েছিলেন শ্রী সুরেন্দ্র নাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও আনন্দ মোহন বসু। সদস্য ছিলেন বিদ্যাসাগর। Indian Association এর উদ্যোগ আজ নিমতলা মহাশ্মশানে বসানো হচ্ছে

স্মৃতিফলক। রবীন্দ্রনাথের সমাধির মুখামুখি প্যাসেজের উল্টোদিকে। আগামীকাল উদ্বেধন।

আমার বিশেষ সৌভাগ্য ও আপনাদের সকলের শুভকামনায় আমি ইসলামপুর, ধানবাদে বিদ্যাসাগরের জীবন ও কাজের ওপর আয়োজিত সভায় যেতে পেরেছি, বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছি।

কত রকমের বই প্রকাশিত হয়ে চলেছে যা হবে এই বিরাট জীবনের মণিকণাকে তুলে  আনার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও যার ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম। আমরা বিহার বাঙালি সমিতির পূর্ণিয়া শাখার তরফ থেকে এই বিশাল দায়িত্বপূর্ণ কাজে সংশ্লিষ্ট প্রত্যককে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন।

২৬.৯.১৯২০ থেকে ২৯.৭.১৮৯১ এই মহতীজীবনের সময়কাল। শরীর নশ্বর হয় কালের নিয়মে।কাজ বেঁচে থাকে অনন্ত কালের ব্যাপ্তি নিয়ে। আমরা এগোই। ব্যাপকতার জীবনপথে আমাদের পথচলা। আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন এই মহাজীবন। আমরা চলার পথে একা নই। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করি। বাঙলার বাঘ লিখছেন ‘বিদ্যাসাগর এই কথাটি আমার নিকট একজন মানুষের নাম মাত্র নয়। ইহা আমার নিকট একটি মন্ত্র স্বরূপ।’

আজকে আমরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের তিরোধান দিবসের দিনটিতে আমাদের সকলের বিনম্র  শ্রদ্ধা ও প্রণাম নিবেদন করছি।

বাংলা ভাষার জন্য নিজের ক্ষতি হতে দেখে অনেক বাঙ্গালী বাংলা ত্যাগ করেছে: ড০ দেবজ্যোতি মুখার্জী, ভাগলপুর

 বাংলা ভাষার জন্য নিজের ক্ষতি হতে দেখে অনেক বাঙ্গালী বাংলা ত্যাগ করেছে http://bangla.rashtriyakhabar.com/bangla-language-ignorance-has-forced-many-to-give-up-their-mother-tongue/

নতুন শিক্ষা নীতি: শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী, সাংসদ, চেয়ারম্যান, পাবলিক একাউন্টস কমিটি

 

শিবব্রত দেওয়ানজী

 

শিবব্রত দেওয়ানজী

চলে গেলেন শিবুদা, শিবব্রত দেওয়ানজী। ভিলাই বঙ্গীয় সাহিত‍্য সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। বাংলার বাইরের বাংলা সাহিত‍্য জগতের তিনি ছিলেন একটি অতি পরিচিত নাম। অসংখ‍্য কবিতা লিখেছেন, তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ‍্যাও কম নয়। দূরের খেয়া পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। আজ ২২শে শ্রাবণ, তিনি চলে গেলেন, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বৎসর। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।

বাপি চক্রবর্তী, দূরের খেয়া, কানপুর

শিবব্রত দেওয়ানজী'র প্রয়াণ সংবাদ জেনে খারাপ লাগল। সঞ্চিতা পত্রিকা ওনাকে পাঠাতাম। মাঝে মধ্যে বিহার বাঙালি সমিতির কাজের প্রশংসা করে পোস্টকার্ডে চিঠি পাঠাতেন যা আমরা সঞ্চিতায় প্রকাশিত করতাম। দু একবার টেলিফোনে কথা হয়েছে। বহির্বাঙলার বাংলা ভাষার একজন যোদ্ধা ছিলেন। ওনার কোন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা ই-মেল আমার কাছে না থাকার জন্য জানুয়ারি ২০২০ থেকে সঞ্চিতা পত্রকা পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিহার বাঙালি সমিতি ও সঞ্চিতা একজন শুভানুধ্যায়ীকে হারাল।

সুনির্মল দাশ



Friday, August 7, 2020

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস: বাঙালি সমিতি, ঝাড়খন্ড: পাকুড় শাখা

 

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস

বাঙালি সমিতি, ঝাড়খন্ডের পাকুড় শাখার পক্ষ থেকে শুক্রবার পালিত হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। সমিতির উপদেষ্টা ও বিশিষ্ঠ আইনজীবী নিরঞ্জন ঘোষ ও জগন্নাথ মণ্ডল কবি গুরুর মূর্তিতে মাল্যার্পন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মুকুল ভট্টাচার্য, সম্পাদক সোমনাথ দাস, কেন্দ্রীয় সমিতির সদস্য মানিক দেব, সন্তোষ নাগ, পঞ্চানন সরকার, সর্বেশ্বর সাধু আরো অনেক। ২০১৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্র দিনে শহরের মধ্যমনিতে টাউন হলের পাশে কবি গুরুর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার মনীশ রঞ্জন এর হাত দিয়ে। টেগোর সোসাইটি ফর রুরেল ডেভলাপমেন্ট এর আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠা হয় কবি গুরুর মূর্তি। সেই সময় থেকে এখানে নিয়মিত পালিত হয় কবিগুরু জন্মদিন ও প্রয়াণ দিবস। করোনা সংক্রমণ এর ভয়াবহতা কে মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব পালন করে একটি মনোগ্রাহী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।       



           

প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায়, দুমকা।

Tuesday, August 4, 2020

কুমকুম সেন: ইউ পি এস সি'তে সাফল্যতার জন্য অভিনন্দন

পাকুড়ের ব্যাঙ্ক কলোনির দীপক সেন মহাশয়ের মেয়ে কুমকুম সেন ইউ পি এস সি র ২০১৯ এর পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করেছেন। তার এই সাফল্যের জন্য পাকুড়ের বাঙালি সমিতির সদস্য সোমনাথ, মানিক দেব, বিশিষ্ঠ আইনজীবী নিরঞ্জন ঘোষ, ব্যাকুল সাধু কুমকুমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কুমকুমের বাবা দীপক বাবু একজন অবসর প্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক ও বঙ্গ সমাজের ভাষা সংস্কৃতির উন্নয়নের একনিষ্ঠ কর্মী। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি ঝাড়খন্ডের পক্ষ থেকে কুমকুম সেন’কে তার সাফল্যতায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায় দুমকা।

এই সুসংবাদ জানানোর জন্য গৌতমবাবু'কে বিহার বাঙালি সমিতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। 

বিহার বাঙালি সমিতির পক্ষ থেকে আমরা একজন গর্বিত পিতা শ্রী দীপক সেন মহাশয়কে ও তাঁর সুযোগ্য কন্যাকেও আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। 

 বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...