Saturday, May 29, 2021
ফুলমতী : লোপামুদ্রা সিংহ দেব।
ফুলমতী ।
লোপামুদ্রা সিংহ দেব।
সাত সকালেই আমার মাথায় বজ্রাঘাত। কাজ করতে এসে ফুলমতি বললো ‘আমি কাল থেকে আর কাজে আসবো না’, হঠাৎ এই কথা! আমারই কোনও দোষ হলো নাকি! খোসামোদের সুরে জিজ্ঞেস করলাম-‘কি হলো বেটা? কেন আসবি না’? ‘আমার শাদী পরশু’। ‘শাদী’- আকাশ থেকে পড়লাম কথাটা শুনে। সবে চোদ্দ পেরিয়ে পনেরোতে পা দিয়েছে, আমার কাছে বসে কিছু কিছু পড়াশোনা,শেলাই শিখছে-তার কিনা ‘শাদী’! এদিকে ফুলমতি চা খেতে বসে মহানন্দে তার হবু বরের গল্প বলতে লাগলো। তারা নাকি কোন মজফরপুর থেকে এসেছে জীপ নিয়ে। বাবা,ছেলে, ছেলের বন্ধু আর ছেলের পিসি । উঠেছে চাইবাসার হোটেলে। গতকাল দেখে গেছে পরশুই বিয়ে। আর যাবার সময় নাকি ওর বাবার হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে গেছে। বাবা,মা ভীষণ খুশি এমন জামাই পেয়ে। বুঝলাম ফুলমতীও বেজায় খুশি। আমার মনটা কেমন ‘কু’-গাইতে লাগলো। এ কেমন বিয়ে! অচেনা,অজানা একটা লোক,কটা টাকা দিয়ে তো কিনে নিয়ে যাচ্ছে মেয়েটাকে ।
স্কুল যাবার পথে ফুলমতীর মা’র সাথে দেখা,তার কথা বলার সময় নেই। তবু তাকে জোর করে দাঁড় করিয়ে আশংকার কথা জানালাম। হেসেই উড়িয়ে দিলো ফুলমতীর মা। বুঝলাম টাকার যাদু একেই বলে। শুনবেও না,মানবেও না আমার কথা। তাই কিছু টাকা দিলাম বিয়ের উপহার হিসেবে।
ফুলমতীর বিয়ের দিন দুপুরে আমরা চাইবাসা থেকে ফিরছি-দেখলাম লাল সাড়ি, সিঁদুর ভর্তি কপাল-জিপে করে ফুলমতী চলেছে তার বরের সাথে।ষন্ডামার্কা চেহারার তিনজন লোক আর এক বুড়ি সেই জিপের সওয়ার। সন্দেহটা আরও দৃঢ় হলো। ফেরার পথেই থানায় হাজির হয়ে সব কথা জানালাম বড়বাবুকে। দেখলাম উনিও একটু চিন্তান্বিত। বললেন খবর পেয়েছি একটা গ্যাং মেয়ে পাচারের নতুন ফন্দি বের করেছে, খোঁজ নিতে হচ্ছে-বলে তিনি ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমরাও বিদায় নিয়ে বাড়ির পথ ধরলাম।
নাঃ সাতদিন হয়ে গেল ফুলমতির কোন খবরই যোগাড় করতে পারলোন�
'নজরুল স্মরণে' ~ ড. আশিস্ কুমার সিংহ
'নজরুল স্মরণে'
~ ড. আশিস্ কুমার সিংহ
দ্বিতীয় পর্ব
আমাদের কবি নিজের জীবিত অবস্থাতেই নানা ভাবে অভিনন্দিত হয়েছেন -- 'বিপ্লবী কবি', 'চারণ কবি', 'প্রেমিক কবি', 'ধর্মভীরু মুসলমান কবি' আবার 'সুরের রাজা' আর 'ভোলা বাউল'-ও। অন্য দিকে বিরূপ আলোচনাও তাঁর ভাগ্যে কম জোটেনি। কখনো বলা হয়েছে -- 'শয়তানের পূর্ণাবতার', কখনো 'খোদাদ্রোহী', কখনো 'পাষন্ড', আবার 'মুসলমান রবীন্দ্রনাথ' নামেও নিন্দিত হয়েছেন তিনি। কিন্তু লক্ষণীয় যে নানা ধরণের নন্দন ও নিন্দন - এর মাঝে আমাদের কবি কিন্তু সম্পূর্ণ বেপরোয়া হয়ে 'জাহান্নামের আগুনে বসে পুষ্পের হাসি হাসতে - হাসতে' এগিয়ে গেছেন। নিজেই স্বীকার করেছেন, 'আজ সৃষ্টি - সুখের উল্লাসে ---- মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে, আজ সৃষ্টি - সুখের উল্লাসে।' এই আপোষহীন বিদ্রোহী কবি নজরুল আজও আমাদের অনুপ্রাণিত এবং অনুরণিত করে চলেছেন। অন্যায় - অসুন্দরের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ আহবান আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে নতুন জীবনীশক্তিতে উদ্দীপ্ত করে তোলার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ বিশেষ।
গবেষকদের ধারণা অনুসারে ১৯২০ -র মার্চ থেকে ১৯৪২ -র জুলাই, মোট মাত্র ২২ বছর নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবন হলেও আমরা ১৯২২ থেকে ১৯৩০, মাত্র ৮ বছরের সময়কালকে তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। এই সামান্য সময়টুকুর মধ্যে তাঁর, অগ্নিবীণা (১৯২২), দোলনচাঁপা (১৯২৩), ভাঙার গান (১৯২৪), বিষের বাঁশী (১৯২৪), সাম্যবাদী (১৯২৫), সিন্ধু হিন্দোল (১৯২৬), সর্বহারা (১৯২৬), চন্দ্রবিন্দু (১৯৩০) ও নজরুল গীতিকা (১৯৩০) সহ বহু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর পরেও তিনি লিখেছেন, যদিও সেগুলির মধ্যে প্রকৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে এই পর্বের রচনাগুলি সেই যুগের প্রতীক হিসেবে আজও আমাদের বিস্মিত করে চলেছে। কবির ব্যক্তিগত জীবনের অস্থিরতা আর বিদ্রোহ, কিংবা প্রেমের ক্ষেত্রে কবির অধীরতা, এই সমস্ত রচনাগুলিতে বাস্তব সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।
আমাদের মনে রাখার দরকার যে ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দের জানুয়ারী মাসে আমাদের কবির সর্বাধিক আদৃত 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রকাশিত হয় এবং প্রকাশনার সঙ্গে - সঙ্গে অভূতপূর্ব জনসমাদর লাভ করে। এমনকি ২৩ বছরের এই যুবকের আলোচ্য রচনাটি সেসময় রবীন্দ্রনাথকেও মুগ্ধ করেছিল এবং নজরুলকে স্বীকৃতি দিতেও তিনি কোন কার্পণ্য করেননি। আমাদের কবির অন্যান্য কবিতাতে বিদ্রোহের ভাব দেখা গেলেও প্রধানত এই কবিতাটির জন্য নজরুল আজও 'বিদ্রোহী কবি' রূপে সমাদৃত হয়ে আসছেন। বলা চলে যে ১৯২২ খ্রীষ্টাব্দে 'অগ্নিবীণা' কাব্যে বিদ্রোহের যে সুর তৎকালে ধ্বনিত হয়েছিল, ইতিপূর্বে বাংলা সাহিত্যে তার দেখা পাওয়া যায়নি, এই সুর আমাদের সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন বলেই আর নতুন বলেই রবীন্দ্র যুগের কবিদের মধ্যে তিনি এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন। নজরুল সম্বন্ধে বলতে গিয়ে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছেন ---- "নজরুলকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয় এটা সত্য কথা। তাঁর অন্তরটা যে বিদ্রোহী, তা স্পষ্টই বুঝা যায়। আমরা যখন যুদ্ধে যাবো, তখন সেখানে যুদ্ধের গান গাওয়া হবে। আমরা যখন কারাগারে যাবো, তখন তাঁর গান গাইবো।" আসল কথা হলো এই যে নজরুলের কবিতা তখনকার তরুণ সমাজকে যতটা নাড়া দিয়েছিল, যুবা - মনকে যতটা আন্দোলিত করেছিল, ততটা অন্য কোন জনের লেখা করতে পারেনি। তিনি নিজে বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, কারাগারে যন্ত্রণা ভোগ করেছেন, এই অভিজ্ঞতার প্রমাণ তাঁর রচনায় পাওয়া যায় এবং বলাই বাহুল্য, অন্য কোন বাঙালি কবির ভাগ্যে এমনটি জোটেনি। নজরুল বিদ্রোহ করেছেন সমাজে ব্যাপ্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, অরাজকতা ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। সমাজপতি সেজে যারা অন্যায় করেছেন, আমাদের কবির বিদ্রোহ তাদের বিরুদ্ধে আর ধর্মের ধ্বজাধারী মোল্লা - মৌলবী আর মোহান্তদের বিরুদ্ধেও। "মানুষেরে ঘৃণা করি', ও'কারা কোরাণ, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি! ও'মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর ক'রে কেড়ে, যাহারা আনিল গ্রন্থ - কেতাব সেই মানুষেরে মেরে।", এছাড়া তদানীন্তন ইংরেজ শাসকদের প্রতিও তাঁর বিদ্রোহ বহু রচনায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি প্রেমিকও। "অনেকের ধারণা বিদ্রোহী কিংবা যোদ্ধার গলায় প্রেমের কথা ঠিক মানায় না। খুবই ভুল ধারণা। যোদ্ধারাই সম্ভবতঃ শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। পৃথিবীর যাবতীয় মহাকাব্য তার প্রমাণ দেবে।*** বীরত্বব্যঞ্জক এমন গান যা শুনলে কাপুরুষের রক্তেও আগুন ধরে যায় আর তার পাশাপাশি এমন মিঠে গজল, যা শুনলে বীর পুরুষের চক্ষুও একটি ললিত স্বপ্নের নেশায় আপনা থেকেই বুজে আসে। এই হলো নজরুলের ষোলো আনা পরিচয়। আট আনা বিদ্রোহ, আট আনা ভালোবাসা।"
Tuesday, May 25, 2021
Ref. No. BAB/ABP/2021/1 Date: 24.05.2021
মাননীয় সম্পাদক
আনন্দবাজার পত্রিকা
বিষয়: সম্পাদক সমীপেষু বিভাগে প্রকাশনার জন্য
আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত(২৩.০৫.২০২১) “রামমোহন চর্চা সব
সরকারি গ্রন্থাগারে” সংবাদের পরিপেক্ষিতে আবেদন –
"অতি প্রসন্নতার বিষয়, ভারতে আধুনিক যুগের প্রবর্তক রাজা
রামমোহন রায়ের ২৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দেশের সমস্ত সরকারি গ্রন্থাগারে
ভারত ও বাংলার চার মনীষার (রামমোহন, সুভাষচন্দ্র, অরবিন্দ এবং সত্যজিত) নামে সব সরকারি
গ্রন্থাগারেই একটি নির্দিষ্ট কোণ থাকবে।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি
ফাউন্ডেশন ‘জাগরিত’ ভারত (রামমোহন), ‘পরাক্রমী’ ভারত (সুভাষচন্দ্র), ‘আধ্যাত্মিক’ ভারত
(ঋষি অরবিন্দ) এবং ‘রচনাত্মক’ ভারত (সত্যজিৎ) নামে গ্রন্থাগারের এই বিভাগগুলির পৃষ্ঠপোষকতা
করবে।
কিন্তু দুঃখের এবং আশ্চর্যের বিষয় যে এই মহতী সিদ্ধান্তে পন্ডিত
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম বাদ। উনবিংশ শতকের এই প্রাণপুরুষকে আধুনিক বিদ্যালয়শিক্ষা-পদ্ধতির
উদ্ভাবক, সমাজ সংস্কারক, মানবকল্যাণ-সাধক, আধুনিক বাংলাশিক্ষা-পদ্ধতির এবং গদ্যের জনক
বললে হয়ত ভুল বলা হবে না। তিনি বাঙালি সমাজে, কর্মে ও মননে প্রগতিশীল সংস্কারের একজন
অগ্রদূত। এক বছর আগেই আমরা তাঁর দ্বিশতজন্মবার্ষিকী পালন করেছি।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক ও রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনকে
এই সংবাদপত্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানাই - বিদ্যাসাগরের নামেও চর্চার একটি নির্দিষ্ট কোণ
প্রত্যেকটি সরকারি গ্রন্থাগারে স্থাপন করা হোক। সে কোণের নাম শিক্ষিত ভারত, কুসংস্কারমুক্ত
ভারত, বিজ্ঞানমনস্ক ভারত, অনেককিছু হতে পারে। কিন্তু দুর্ভিক্ষ ও ম্যালেরিয়াক্লিষ্ট
বাংলায় (এবং আজকের ঝাড়খন্ডে) তাঁর অক্লান্ত মানবসেবার কথা মনে রেখে আজ এই কোভিডের অতিমারির
দিনে সে বিভাগের নাম ‘কল্যাণময় ভারত’ রাখার প্রস্তাব দিলাম।
সুনির্মল দাশ,
সাধারণ সম্পাদক, বিহার বাঙালি সমিতি, রামমোহন রায় সেমিনারী,
ডা০ বিধান চন্দ্র রায় পথ, পাটনা – ৮০০ ০০৪
যুগ্ম সম্পাদক, বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা সমিতি, নন্দন কানন, বিদ্যাসাগর,
জেলা – জামতাড়া, ঝাড়খন্ড
৯৪৩০২৯৪২৮৭ (মোবাইল)
নজরুল স্মরণে'.......... ~ড. আশিস্ কুমার সিংহ
'নজরুল স্মরণে'..........
~ড. আশিস্ কুমার সিংহ
প্রথম পর্ব
"নজরুল" বাঙলার কবি, তিনি ভারতের কবি, আবার তাঁকে বিশ্ব মানবতার কবি বললেও কোন অত্যুক্তি হবে না, বরং এই ভাবনাটিকে আজকের দিনে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলির মূল মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে আমি আমার 'কবি - প্রণাম' পর্ব আরম্ভ করলাম।
সর্বজনীন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সর্বকালীন কবিও তিনি। ধর্মে - ধর্মে, মানুষে - মানুষে সেতু বন্ধনের কবিও তিনি। কবি ছাড়াও তিনি একাধারে ছিলেন ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, এমনকি প্রাবন্ধিকও। এছাড়াও তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সম্পাদক এবং অনুবাদক। এগুলি ছাড়াও তাঁর আরেকটি বড়ো পরিচয় আছে..... তিনি সংগীত জগতের একজন মহান ব্যক্তিত্ব.... তিনি গীতিকার, সুরকার, গায়ক, সংগীত শিক্ষক এবং সংগীত পরিচালক। তিনিই 'চির - উন্নত - শির' পরিপূর্ণ একজন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে সাহিত্য চর্চা করার সময় তিনি বেশি পাননি, আর দেখবো যে ১৯২০ থেকে ১৯৪২ পর্যন্ত অর্থাৎ মাত্র ২২ বছর ছিল আমাদের কবির সাহিত্যিক জীবন আর এই অল্প সময়ে তিনি যা কিছু লিখেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে গীতি কবিতাই ছিল তাঁর প্রতিভার স্বাভাবিক বিচরণ ক্ষেত্র। এই কারণে মাঝে - মাঝেই মনে এই প্রশ্ন জাগে যে তিনি যত বড় কবি, তারচেয়ে বড় গীতিকার ছিলেন, যদিও এই ধরণের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কিংবা দেওয়া এই সামান্য রচনায় কখনো সম্ভব হতে পারেনা। তবে এখানে শুধু আমরা এইটুকু বলবো যে তিনি একাধারে 'জনগণের' কবি ছিলেন আবার 'জনগনের গীতিকার'-ও। নিজের সৃষ্টিতে তিনি যে সমাজের ছবি এঁকেছেন, সেই ছবি কেবল মাত্র সেই সমাজের হয়ে থাকেনি বরং সব সমাজের, সব সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর সৃষ্টিতে আনন্দ পেয়েছে। তার মানে হলো দেশ - কাল - পাত্রকে অতিক্রম করে তাঁর সৃষ্টি চিরন্তন মানুষের ব্যথা - বেদনা ও আশা - আকাঙ্ক্ষার একটা রূপকে সকলের মাঝে সজীব করে তুলতে পেরেছে বলেই শিল্পী নজরুল আজও আমাদের মাঝে প্রাসঙ্গিক হয়ে আছেন।আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ। আমাদের কবির ১২৩-তম আবির্ভাব দিবসে আমি তাঁর প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করছি।
এপার বাংলা আর ওপার বাংলার প্রিয় কবি নজরুলের জন্ম এপার বাংলার বর্ধমানে আসানসোলের কাছে চুরুলিয়ায় -----১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (ইং ১৮৯৯ সালের ২৫-এ মে) আর তাঁর ওপার বাংলার ঢাকা শহরে ২৯-এ আগষ্ট ১৯৭৬-এ দেহাবসান ঘটে। তাঁর বাবা ছিলেন কাজী ফকির আহম্মদ ও মায়ের নাম জাহেদা খাতুন। চার পুত্রের অকাল মৃত্যুর পর আমাদের কবির জন্ম হয়েছিল বলে তাঁর নাম দেওয়া হয় 'দুঃখু মিঞা'। মাত্র ৮ বছর বয়সে পিতার অকাল বিয়োগের ফলে তাঁকে সেই ছেলে বেলা থেকেই সংসারের নানাবিধ অবাঞ্ছিত জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে হয়। ফলে ধারাবাহিক শিক্ষা নয়, খাপছাড়া ভাবে তিনি পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের সৌভাগ্য ক্রমে এই অনিয়মিত ভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করা কালে তিনি প্রখ্যাত কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিককে নিজের শিক্ষাগুরু এবং সহপাঠী হিসেবে প্রখ্যাত সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গ লাভ করেছিলেন।
'লহ প্রণাম': কবি নজরুলের আজ ১২৩তম আবির্ভাব দিবস:
'লহ প্রণাম'
আজ ২৫ মে, আজ, যিনি সেই বিরল অসামান্যদের একজন, যাঁদের ঠিক কোন বিশেষ ছাপা চেহারায় চেনা যায় না, যিনি অসাম্প্রদায়িক হয়েও ছিলেন ধার্মিক আর চিরন্তন সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত সত্য ধর্মে ছিলেন আস্থাবান, রবীন্দ্র - পরিমন্ডলে বড় হয়েও, রবীন্দ্র - অনুরাগী হয়েও, ছিলেন একজন ভিন্ ধর্মী - ভিন্ গোত্রের কবি -- আবার সমকালীন কবি কুলের আবেদন যেখানে প্রধানতঃ মস্তিষ্কে, সেখানে যাঁর আবেদন ছিল পাঠককুলের হৃদয়ে -- সেই বহুমাত্রিক মানবপ্রেমিক; জাতি - ধর্ম - বর্ণ ও স্থান - কাল - পাত্র নির্বিশেষে অসহায় মানবজাতির দুঃখ মোচনের জন্য চার পুত্রের অকাল মৃত্যুর পর জন্ম নেওয়া দুঃখু মিঞার; কবি নজরুলের আজ ১২৩তম আবির্ভাব দিবস। এই উপলক্ষে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করছি।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২ তম জন্ম জয়ন্তী পালিত হল
২৫ শে মে ২০২১ ঝাড়খন্ড বাঙালি সমিতির পাকুড় শাখার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২ তম জন্ম জয়ন্তী পালিত হল ।
সমিতির উপদেষ্টা ও আইনজীবী নিরঞ্জন ঘোষ, মানিক চন্দ্র দেব সচিব,শ্যাম পোদ্দার,ব্যাকুল সাধু ও সমিতির অন্য সদস্য কবির স্ট্যাচু তে মাল্যারপ করে ঐ মহাপুরুষের জীবনী কে তুলে ধরেন ।সেই সঙ্গে কোভিড ১৯ এর গাইডলাইন কে মাথায় রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় ।
প্রতিবেদন - গৌতম চট্টোপাধ্যায়
Monday, May 24, 2021
কাজী
কাজী
শ্রদ্ধাঞ্জলি---অঞ্জলি ভট্টাচার্য
শ্রদ্ধাঞ্জলি---অঞ্জলি ভট্টাচার্য
অঞ্জলি ভট্টাচার্য্য---এই
নামটির সাথে জামশেদপুরের অনেকেই পরিচিত। বিশেষ করে যারা পুরোনো বাসিন্দা। জামশেদপুরের
বাইরে তিনি পরিচিত ছিলেন বাঙালি সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবে।
জামশেদপুরের সেই সময়ের নামকরা স্কুল,
সাকচী হাইস্কুলের উজ্জ্বল ছাত্রী অঞ্জলি ভট্টাচার্য্য ম্যাট্রিক পাশ করেন খুব ই ভালো
রেজাল্ট করে। স্কুল কলেজে স্কলারশিপ নিয়ে ই
পড়াশোনা।। ম্যাট্রিক পাশের পর নিজের স্কুলের মর্ণিং সেকশনে শিক্ষকতা আর সন্ধ্যায় কো-অপারেটিভ
কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন। অঙ্ক ও স্ট্যাটিসটিক নিয়ে B.A পাশ করার পর রাঁচির থারপাখনা
গার্লস হাইস্কুলে অঙ্কের টিচার হিসেবে যোগ দিলেন। বছর দুই পরে নিজের প্রিয় জন্মভূমি
জামশেদপুরে ফিরে এসে যোগ দিলেন L.I.C তে। ছোট থেকেই খেলাধুলায় দক্ষ অঞ্জলিদি স্কুল,
কলেজ ও পরে L.I.C র চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।
নাটকেও পারদর্শী অঞ্জলিদি যোগ দেন I.P.T.A তে।
স্বামী সুকুমার ভট্টাচার্য্য ও I.P.T.A র সদস্য ছিলেন। সংসার জীবনের সাথে সাথে নাটক
ও সমাজ সেবার কাজ শুরু করলেন। যেখানেই মেয়েদের বিপদের খবর পেয়েছেন সেখানেই তিনি ও তাঁর
সহকর্মীরা ছুটে গেছেন।
এই সময় তিনি যোগ দেন বিহার বাঙালি সমিতি,
নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন,
প্রজ্ঞা ভারতী, রবীন্দ্র
সাহিত্য চর্চা কেন্দ্র 'বুধসন্ধ্যা'তে।
মন-প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছিলেন সমিতির কার্যকলাপকে।
তাই ভাগলপুর, পাটনা, গয়া, পূর্ণিয়া, রাঁচি সহ সব জায়গায় গেছেন মিটিং এ যোগ দিতে। কার্মাটাঁডে
বিদ্যাসাগর প্রতিষ্ঠিত স্কুলের জন্যে আঁচল পেতে অর্থ সাহায্য চাইতে যেমন দ্বিধা করেননি
, তেমনি নিজের সঞ্চিত অর্থ ও দিয়েছেন হাসিমুখে। তাঁর সুযোগ্য পুত্র সুমন ও আমেরিকা
থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পাঠিয়েছে এই স্কুলের জন্যে। অন্যান্য সংস্থাতেও সাহায্যের হাত
বাড়িয়ে দিয়েছেন সব সময়।
তিনি ছিলেন বেঙ্গলী অ্যাসোসিয়েশন ঝাড়খণ্ড
এর প্রাক্তন সহ সভাপতি। বিদ্যাসাগর স্মৃতি রক্ষা সমিতি, নন্দনকানন, কার্মাটাঁড এর
কার্যকারী সমিতির সদস্য। শরীর সহযোগিতা না করায় তিনি অবসর নেন। অবসর জীবনের সঙ্গী ছিল
রামকৃষ্ণকথামৃত ,গীতা, কোরান, বাইবেল, রবীন্দ্ররচনাবলী, জীবনানন্দ দাসের কবিতা ও বিভিন্ন
পত্র-পত্রিকা। তাঁর কন্ঠে চন্ডী পাঠ শুনে মুগ্ধ হয়েছিল আমেরিকা প্রবাসী বেশ কিছু বাঙালি
তরুণ তরুণী।। তাঁর লেখা বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে।
৬ই মে ২০২১এর দুপুরে তিনি চলে গেলেন অমৃতলোকের
পথে, হয়তো আরোও কোন বড় কাজের দায়িত্ব নিতে। তাঁকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।
লোপামুদ্রা সিংহদেব।
(সদস্য, জামশেদপুর শাখা।)
আমার কবি নজরুল/বিকাশ দাস
আমার কবি নজরুল/বিকাশ দাস
চিরদিনের বাঙালি বাংলা ভাষার তুমি পূজারী
আকাশ-অরণ্য-প্রকৃতিমগ্ন ছন্দের অধিকারী
ঘাত প্রতিঘাত দ্রোহের উতরোলে কাজী, মশগুল
সাম্যের কবি মানবতা-দরদি,বিদ্রোহী কবি নজরুল।
বেঁধেছ শব্দের অসিতে,রণরণিত স্বাধীন কণ্ঠস্বর।
সৃষ্টি-সুখের-উল্লাসে সর্বহারার অখণ্ডতার চরাচর
শব্দের প্রসূত এক অভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায় জাতপাত
পৃথিবীর গোলা ভরা ধান।মানুষের রক্তশ্রমের বরাৎ।
ধৈর্যশীলতা প্রেম ভালোবাসার শুদ্ধতম বলিদান
মানুষের হৃদয় অন্তরে নজরুল আজও অস্তিমান।
কাগজে কলমে যদিও দেখেছি মাটির বিভাজন।
শব্দ ছন্দের পরাগে পরাগে করেছ অসাধ্য সাধন
সোয়াস্তি-স্বরাজ-আত্মদান মানুষ মানুষের বাঁধন।
ক্ষুধার অন্নে প্রাণের ঘ্রাণ দু’মুঠো ভাত একটু নুন
অন্তরে অন্তরে আগুনের আতরে জ্বালিয়ে উনুন।
এক হাতে বাঁশের বাঁশরী আর এক হাতে রণ-তুর্য
প্রেম-পীড়ন-তৃষ্ণার অলঙ্কার। বিপ্লব সমুদ্ধত সূর্য।
চির-উন্নত শির প্রাণখোলা হাসি মৃত্যুর পরাজয়
শব্দের সমৃদ্ধিতে শত্রুর কোলাকুলি প্রাণবন্তময়।
বেলা শেষে শাস্ত্র পুঁথি গ্রন্থ দুর্গতির পাতার দর্প ছিঁড়ে
যাপন ভ্রমণ হোক আকাশ খোলা সত্য সংসার-নীড়ে।
কাব্যের নিভৃতে ধরেছ আকাশ প্রকৃতির সবুজ হাওয়া
মনুষ্যত্ব সর্বশক্তিমান, দু’চোখে বাঁধলে অভয় চাওয়া।
শব্দে চেতনা জাগিয়ে বলেছ অদৃষ্টের কঙ্কালে
বৃথা খুঁজিস তোর ঠাকুর। সে তোরই অন্তরালে।
বুকের পাঁজরে শ্রেষ্ঠ রত্নবৎ হৃদয় এক খানা
মন্দির-কাবা ঈশ্বর-খোদা পাথর সবার জানা। ।
বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...
-
(১) আজ আমার রিক দাদাভাইয়ের বিয়ে। সারাবাড়িটা যেন আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠেছে। সবাই আজ কত খুশি! নতুন বৌমণি ঘরে আসবে বলে কথা। আমার দাদাভাইটাকেও...
-
অবুঝ মন *** কলমে ---- শঙ্খ শুভ্র চক্রবর্তী শান্ত আমার হূদয় আজি ,ক্লান্তী আমার চোখে , আঁধার এসে কখন যেন ভীড় করেছে মনে | কালো রাতের সিঁড়ি ব...









