Tuesday, August 18, 2020

বিহার বাঙালি সমিতি: ভাগলপুর শাখার কার্যকারিণী সভা

 বিহার বাঙালি সমিতি: ভাগলপুর শাখার কার্যকারিণী সভা

১৭ই অগাস্ট ২০২০ বিকেল ৫টায় দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিহার বাঙালি সমিতির ভাগলপুর শাখার কার্যকারিণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে আয় ব্যয়ের হিসেব ও অডিট রিপোর্টে কোষাধ্যক্ষ পেশ করে যা সর্ব সম্মতিক্রমে পাশ করা হয়।  


এই কোরানা মহামারী অসময় বিপদে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থার জন্য যারা সাহায্য করেছেন (রত্না মুখার্জি , অমিতা মৈত্র, সোমনাথ সরকার, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, অনুময় চৌধুরি, ডাঃ শঙ্কর, সুভাষ সংঘ, সুপানি মুখার্জি। তাঁদের সমিতির তরফ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।


   শরৎচন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে একটি ওয়েবিনার বা অনলাইন লাইভ করার সিদ্ধান্ত গৌতম সরকারের প্রস্তাবে নেওয়া হয়। এর জন্য একটি সাব কমিটির গঠন করা হয়।

            শেষে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় ও রাষ্ট্রীয় গান গেয়ে মিটিংয়ের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদক – জয়জিৎ ঘোষ, সম্পাদক, ভাগলপুর শাখা

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস

আজ ১৮ আগস্ট সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোসের প্রয়াণ দিবস দাবী করে প্রচার চলছে। জে এম এম নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন, বিজেপির নেতা ও পূর্ব মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস, এম এল এ সমীর মহন্ত, জামশেদপুর পশ্চিমের সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মকর্তা হিদায়তুল্লা খান সোশ্যাল মিডিয়াতে নেতাজীর প্রয়াণ দিবস দাবী করে সর্ব সাধারণ কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই কর্মকর্তারা ১৯৪৫ সালের আজকের দিনে জাপানের তাইহুকু বিমান বন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যুর ঘটনার প্রচার চালালেন। 


দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহেরু, বিশ্ব বরেণ্য নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস’কে জীব্বদশায় যমালয়ে পাঠিয়ে সিংহাসন দখল রাখার পাকাপাকি ব্যবস্থা করেছিলেন। নেহেরুজী নেতাজীর মৃত্যু রহস্য নিয়ে দুইটি কমিশন গঠন করেন। সাহনাবাজ কমিশন ও খোশলা কমিশন। সাহনাবাজ ও খোশলা দুইজনই আজাদ হিন্দ ফৌজ এর সৈনিক ছিলেন। বিশ্বের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। কোন দেশে সৈনিককে কমিশনের অধ্যক্ষ করা হয়না। ওই দুইটি কমিশনের রিপোর্টে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যুর কথা বলা হয়। তবে মিস্টার নেহেরু নেতাজীর মৃত্যুর উদ্ভট সিদ্ধান্তকে ঘোষণা করার সাহস পাননি। পরে প্রধানমন্ত্রী মুরারজি দেশাই ওই দুইটি কমিশনের মনগড়া রিপোর্ট খারিজ করে দেন। প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতাজীর মৃত্যু রহস্য নিয়ে গঠন করেন মুখার্জি কমিশন। ওই কমিশনের রিপোর্টে বিমান দুর্ঘটনার দাবিকে খারিজ করে দেন। মুখার্জি কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহুকু বিমান বন্দরে কোন প্লেন নামেনি। কেন্দ্র সরকার আজ পর্যন্ত নেতাজীর প্রয়াণ দিবস ঘোষণা করেনি। অথচ বিনা কোন তথ্যের ভিত্তিতে জে এম এম ও বিজেপি ১৮ আগস্ট নেতাজীর প্রয়াণ দিবস বলে প্রচার চালাল। বিষয়টি দুঃখজনক ও লজ্জা জনক, একটি বড় সড় চক্রান্ত।।                      

প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায়, দুমকা।

স্বাধীনতা তোমাকে খোলা চিঠি: রিমা দাশ, দিল্লি

 স্বাধীনতা তোমাকে খোলা চিঠি

রিমা দাশ, দিল্লি

 · 

বছরের বিশেষ বিশেষ এক একটা দিনে ভীষণ ভয় করতে থাকে। ভয়টা তার উচ্ছাসের আবেগের জোয়ার মোবাইলে সামলাই কী করে। এত এত মানুষের দেশপ্রেম দেশভক্তি সাং বৎসর কোথায় যে লুকনো থাকে কেজানে। বিদেশ না গেলে এখন সমাজে কল্কে পাওয়া যায়না। ক'জন ঘরের কাছে আরশিনগর হিমাচলের ছাতরারি গ্রামে ঘুরতে যায়? পাহাড় থেকে সমতলের ঢালে শীতকালে যেখানে দু'পাশ জুরে শুধু হলুদ আর হলুদ- সর্ষে ক্ষেতে ভরা। জ্বালা, এই দৃশ্য অনুধাবন করতে গেলে অকৃত্তিম হতে হয়। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন বোল্লেই আমেরিকা ছাড়া আর কিছু হয় নাকি! গড়বেতার গ্রান্ড ক্যানিয়ন দূরও তো SC/ST. যাক সেসব কথা। আজ স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর। চাট্টি খানিকথা। এই বৃদ্ধ সংখ্যায় মোড়া দেশকে আমি বড় ভালোবাসি। বিপুল জনসংখ্যার চাপে পরিবেশ দূষিত। বড় চিন্তা আমার তাকে নিয়ে। তাই মাঠেঘাটে একটা চারাগাছও লাগাই না। অথচ বৃক্ষরোপণের কত কথা বলি। ছেলে যখন ছোটো তার বেগ পেলে অবলীলায় প্যান্টের চেন খুলে হয় দেওয়ালে নয়তো কোনো গাছের গোড়ায় নয়তো রাস্তার একপাশে বলি "করে এসো"। বড়বেলার হাতে খড়ির বীজ স্বভাবে বপন করে দিই। আমি বড় ভালোবাসি নিজের দেশকে। কত কষ্টে বিপ্লবীরা স্বাধীনতা অর্জন করে তাকে " জননী জন্মভূমি শ্চস্বর্গাদপি গিরিয়সী" করে তুলেছে। তাদের ফটো তোরঙ্গে যত্নে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ দিনে সেই মহামানব ফুলে চন্দনে চর্চিত হয়ে গৃহস্থের দেশপ্রেমের ডেডিকেশনের মাত্রা বাড়ায়। বাকী সময় ঐ বন্দিজীবন। মৃত মানুষের প্রতীকী করে যে ডেডিকেশন দেখান যায় তাও বুঝে ওঠা হয়না। আমি বড়ভালোবাসি আমার দেশকে। ওই তিনরঙকে। তাইতো স্যান্ডুইচের ডিজাইন বানাই। শাড়ি, সালোয়ার- কামিজ, কুর্তা পাজামার ফ্যাশন স্টেটমেন্টের অংশীদার হই। তাই শপিংমলে বিদেশী ব্র্যান্ডের দোকানে ঢুকে কেনাকাটা সারি। বাড়ির সামনের ফুটে স্বাধীনতাত্তোর দেশে যে ভিখারিটা থাকে জলভাতের মতো তাকে প্রতিদিন দেখি। দুমুঠো খাবার দেবার কথা কখনো ভাবিনা। আমি বড় ভালোবাসি নিজের দেশকে। কাতারে কাতারে মানুষ অনাহারে দাবার ঘুটির রাজার চালে পথেঘাটে মরে। কপর্দক শূণ্য হয়ে পাড়ি দেয় পায়ের তলার মাটি খুঁজতে। আমি ড্রইংরুমে বসে বিশাল বড়ো রঙিন টিভিতে ডেভিড্রফের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে বলি – কী দরকার ছিল নিজের জায়গা ছেড়ে অন্য ভুঁইয়ে ঠাই নেবার। নুন্যতম পেটের দানাপানির তাগিদে সেই ভারতবাসীর টেবিল টেনিসের পিংপং বলের অবস্থা আমি ভাবলেশহীন চোখে দেখতে থাকি। সেই ভালোবাসায় আটকে থাকে কৃত্রিম নোনাজল। একটু মেয়েবেলায় বড় হলে শুনতাম তোর বাবামা তোকে বন্ধুদের সাথে একা সিনেমা দেখার স্বাধীনতা দেয় ? জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে শুনি (এই মাঝ বয়সেও) তোর বর কি ভালো তোকে/তোমাকে বাইরের পুরুষদের সাথে কথা বলার অনুমতি দেয়, সবজায়গায় যাবার স্বাধীনতা আছে। অনেক মাথা খাটিয়েও উদ্ধার করতে পারিনা সেই কথার অর্থ। যতদূর জানি আমি তো পরাধীন নই, স্বাধীন ভারতবর্ষে জন্ম গ্রহণ করা এক স্বাধীন মত চেতনা প্রকাশে স্বাধীন নাগরিক। স্বাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার। তারজন্য বাবা-মা কিংবা স্বামীর বা রাষ্ট্রের কাছে কেন ঋণী হব। তবেকি স্বাধীনতা শুধুই একটা শব্দ! চুয়াত্তর বছর পেরিয়ে সে কী শুধু কিছু দেশাত্মবোধক গান, বিপ্লবীর ফটোতে মাল্যদান, ভাষণ আর বর্তমানে মোবাইলে সকাল থেকে মেসেজের আদান প্রদান? জানতে চাই, উত্তর কোথাও নেই। তাই আপতত অপেক্ষা রাতভোর হবার।

 

Sunday, August 16, 2020

কোন শব্দ নেই: দেবাশীষ মিশ্র, জামতাড়া

 কোন শব্দ নেই

এ শহর থমকে
আমি প্রাণপনে
চিৎকার করি
প্রতিধ্বনি কোথায়
সবাই কি নিশ্চুপ !
মুখে কি কুলুপ আঁটা
মৃত্যুর আগেই মরে গেছ
কে শাসন করে তোমাদের ?

স্বাধীনতা দিবস: বিহার বাঙালি সমিতি, বরারী শাখা

 

বিহার বাঙালি সমিতি, বরারী শাখা আজ নিজেদের নিশুল্ক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্র, ছাত্রী, স্থানীয় লোকজন ও পদকর্তারা এক সাথে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কোভিড এর সরকারী নিয়ম পালন করে পতাকা উত্তোলন করেন। উপস্থিত ছাত্র ও ছাত্রীরা জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশ ভক্তি গান গেয়ে শোনায়।

আজ ভাগলপুর এর সদর এস ডি ও, নিজ বাসভবনে পতাকা উত্তোলন এর জন্য শহরের গণ্য মান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তাহাদের মধ্যে বিহার বাঙালি সমিতি, বরারী শাখার প্রেসিডেন্ট শ্রী তরুণ ঘোষ মহাশয়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তিনি পতাকা উত্তোলন এর সময় উপস্থিত ছিলেন যা বরারী শাখার কাছে খুব আনন্দ এবং গর্বের বিষয়।

প্রতিবেদন - তাপস ঘোষ, যুগ্ম সচিব ও শ্রী সুবোধ কুমার ভৌমিক, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল কমিটি, পাটনা।


হরিসভা স্কুল ও বীণা কনসার্ট ক্লাব, মুজজ্ফরপুর এ স্বাধীনতা দিবস: শুভাশীষ বোস

 



হরিসভা স্কুল ও বীণা কনসার্ট ক্লাব, মুজজ্ফরপুর এ স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।

Saturday, August 15, 2020

প্রতীক চিন্হ: ঝাড়খন্ড রাজ্য সরকার

 



রাজধানীর রাঁচির আর্য ভট্ট সভাগারে শুক্রবার (১৪ই অগস্ট ২০২০) প্রধান অতিথি, মাননীয়া রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্য সরকারের নতুন প্রতীক চিন্হ জারি করলেন। সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ঠ অতিথি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন, বিধানসভার অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ মাহাতো, রাজ্যসভার সদস্য শিবু সরেন ও রাজ্যের মন্ত্রীগণ।

Wednesday, August 12, 2020

ক্ষুদিরাম বোস: আবক্ষ মূর্তির পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবি

 ক্ষুদিরাম বোস: আবক্ষ মূর্তির পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবি


বঙ্গবন্ধু নামক সংগঠন ক্ষুদিরাম বোসের আবক্ষ মূর্তির পুন প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হল। মানগোর ক্ষুদিরাম বোস চকের অনুষ্ঠানে জোরাল আন্দোলনের দিল ডাক।

শহীদ ক্ষুদিরাম বোসের ১১২ তম মৃত্যু দিবসের দিন জামশেদপুরের বঙ্গবন্ধু নামক সংগঠন চান্ডিল এর ক্ষুদিরাম বোস চকের আবক্ষ মূর্তিটি পুনঃ প্রতিষ্ঠার জোরাল দাবি করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে মানগোর গোলচক্করের ক্ষুদিরাম বসুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যার্পন করে চান্ডিলের শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতির মুর্তির পুনঃ প্রতিষ্ঠার দাবিকে পূর্ণ সমর্থন করে ঐ সমিতির পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প নেয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে মাল্যারপন করেন অপর্ণা গুহ, রাজেশ রায়, অভিষেক দে, তাপস গাঙ্গুলি, রঞ্জন রায়, সরোজ সেন, স্বরূপ ব্যানার্জি, বিনোদ দে, প্রণব সরকার, আরতি সেন, তুষারিকা বোস, অভিষেক ভৌমিক, গৌতম চক্রবর্তী, বাপন ঘোষ, সুভাষ সিংহ রায় আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। রাজেশ রায় বলেছেন চান্ডিলে ক্ষুদিরাম বোস চকে ২০১৯ এর আজকের এই পবিত্র দিনে এস ডি ও ধারা ১৪৪ জারি থাকা শর্তে শহীদের মূর্তিটি উপড়ে নিয়ে যান। শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতি প্রতিষ্ঠিত আবক্ষ মূর্তিটি উপড়ে কোথায় রেখেছে সমিতি আজ পর্যন্ত জানেনা। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে রাজ্যের পূর্ব চিফ সেক্রেটারি কে চিঠি দিয়ে আশু নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন। চিফ সেক্রেটারি বিষয়টি হিম ঘরে পাঠিয়ে দেন। বর্তমান জে এম এম সরকারের নগর উন্নয়ন ও আবাস বিভাগের এডিশনাল সেক্রেটারি চন্দন কুমার বিষয়টির নিষ্পত্তি করার জন্য সারায়কেলা-খরশোয়া জেলার ডেপুটি কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর কর্মকর্তারা শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতির অধ্যক্ষ মনোজ বর্মা, সেক্রেটারি আশু দেব মাহাতো ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দের সঙ্গে বৈঠক করে ডিসির সঙ্গে দেখা করে আবক্ষ মূর্তি পুনঃ প্রতিষ্ঠা করার দাবি করবেন।

 প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায়, দুমকা।

Tuesday, August 11, 2020

শহীদ ক্ষুদিরাম

 

শহীদ ক্ষুদিরাম

তাঁর বয়েস হয়েছে। প্রায় নব্বই। শ্রদ্ধেয় অরুণ কুমার রায়। কিন্তু আজ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অবাক হলাম। মোবাইল বাহিত কন্ঠস্বর আজ যে কোন তরুণ যুবকের মত দীপ্যমান। উজ্জীবিত গলায় বলছিলেন বাবার কথা। প্রসঙ্গ সেই মৃত্যুজয়ী কিশোর ক্ষুদিরাম। বাবা জীতেন্দ্রনাথ রায়কে জীতুবাবু নামেই চিনতেন মুজ:ফরপুরের পরিচিতজনেরা। ক্ষুদিরাম তখন মুজ:ফরপুর জেলে বন্দী। জেলে তাঁকে দেখতে যেতেন মাঝে মাঝে ক্ষুদিরামের উকিল তাঁর সঙ্গী হয়ে। বাড়ি ফিরেই স্ত্রী তরুবালাকে আবেগরুদ্ধ গলায় বলতেন, ‘তরু দেখে এলাম ঐ কিশোরটিকে। কি প্রশান্ত মুখমন্ডল। আহা কি আভা চোখেমুখে। অসমসাহসী। মৃত্যুভয় কাকে বলে ও জানে না তরু।’ মাকে জেলবন্দী ছেলেটির কথা বলতে গিয়ে গলা ভেঙ্গে আসত বাবার। বয়স্ক মানুষটি আটকাতে পারতেন না নিজেকে। ক্ষুদিরামের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন জিতেন্দ্রনাথ। আজই সেই দিন। লিখছি। বাইরে সন্ধ্যের অন্ধকার। রাস্তায় আলো জ্বলে উঠেছে। ১১ই আগস্ট ১৯০৮।

প্রভাতী সূর্য্যর আলো ছড়িয়ে পড়েছে মজ:ফরপুর শহরের আকাশে। একটি অমূল্য জীবন ঘিরে নেমে আসছে  সূর্য্যাস্তের ছায়া। ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে সময়ের সঙ্কেত ধ্বনি। মহাকালের হিসেব।ঘড়ির কাঁটায় সময় সকাল ছটা। সেদিন যন্ত্রণায় বিদ্ধ সাত সকালে পাঁচটায় দুজন বাঙ্গালি জেলের সামনে এসে পৌঁছন। ভেতর ঢোকার অনুমতি এই দুজন বাঙ্গালি পেয়েছিলেন। বেঙ্গলি কাগজের সংবাদদাতা ও উকিল উপেন্দ্রনাথ বসু আর ক্ষেত্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। স্নান সারা।হেঁটে আসছেন অকুতোভয় কিশোর। বয়েসের হিসেবে উনিশ হয়নি তখনো। দুজন বাঙ্গালিকে দেখে হাসলেন। বাকিটা ইতিহাস। ইতিহাসের পাতা কথা বলে। জেলের বাইরে আনা হয়েছে তাঁকে। এখন আর তিনি কোন কথা বলবেন না। ব্রিটিশ বিচারককে যেমন একদিন বলেছিলেন। আদালতে যেদিন বিচারক কর্নডফ ফাঁসীর দিন ১১ ই আগস্ট ঘোষণা করেন। ক্ষুদিরাম বিচারককে বল্লেন ‘একটা কাগজ আর পেন্সিল দিন। আমি বোমার চেহারাটা এঁকে দেখাই। অনেকেরই ধারণাই নেই ঐ বস্তুটি দেখতে কেমন।’

এগারোই আগস্ট। সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা মজ:ফরপুর। শোকস্তব্ধ। পরের দিন শহরের ওরিয়েন্ট ক্লাবে একত্র হয়েছিলেন ডাক্তার জীতেন্দ্র নাথ ঘোষ, চারুচন্দ্র চৌধুরী, রামলাল চট্টাপাধ্যায় প্রমুখ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিত্বেরা। ক্লাবের বাইরে ছিল মজুদ গোয়েন্দাবাহিনী। আশঙ্কা আজ সভায় আবেগের বহি:প্রকাশে যেন কোন ভয়ঙ্কর ঘটনা না ঘটে যায়।

পাটনায় আজ কথা বল্লাম ৯০ বছরের যুবক অরুণকাকুর সঙ্গে। মহান বিপ্লবী, রাসবিহারী বসুর ঘনিষ্ট সহযোগী শচীন্দ্র নাথ সান্যাল তাঁর জ্যাঠামশাই। কাকু দৃপ্ত কন্ঠে বল্লেন অমর শহীদ ক্ষুদিরামের কথা হোক। আমাদের জন্যে, দেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা ক্ষুদিরাম বাজি রেখে ছিলেন নিজের জীবন। ফৈজ আহমেদ ফৈজের শব্দে -

মেরী জিন্দগী রহগুজর হৈ

হর এক কো ফৈজ মিলে

মৈ চিরাগে রহগুজর হুঁ

মুঝে সৌখ সে জলাও

মুঝে সৌখ সে জলাও।

বিহার বাঙালি সমিতি, পূর্ণিয়া শাখার তরফ থেকে জানাই চিরভাস্বর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতির প্রতি বিনম্র

শ্রদ্ধাঞ্জলি।

অজয় সান্যাল

শহীদ ক্ষুদিরাম: চান্ডিল

                                                                 শহীদ ক্ষুদিরাম


মঙ্গলবার ১১ আগস্ট সারায়কেলা - খরশোয়া  জেলার চান্ডিল এর শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতির পক্ষ থেকে চেনপুরের আপগ্রেড হাই স্কুল চত্বরে ১১২ তম বলিদান দিবস পালিত হল। সমিতির সভাপতি মনোজ বর্মা, সচিব আশু দেব মাহাতো, জেলা পরিষদ এর উপাধ্যক্ষ অশোক সাও, চন্দন বর্মা, সুভাষ গড়াই করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতাকে মাথায় রেখে সামাজিক দূরত্ব পালন করে শহীদের চিত্রে মাল্যদান করেন। ২০১৬ সাল থেকে শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতি কান্ডরা চকে বলিদান দিবস পালন করে আসছে। ১১ আগস্ট ২০১৯ স্মারক সমিতি ওই চকে ক্ষুদিরাম বোসের আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্টা করে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে, তৎকালীন এস ডি ও বাধা দেন। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে দেয়।অগত্যা স্মারক সমিতি পাশের চেনপুরের স্কুল চত্বরে বলিদান দিবস পালন করে। এলাকায় ধারা ১৪৪ জারি থাকা শর্তে এস ডি ও ড. বিনয় কুমার মিশ্র সেই দিন আবক্ষ মূর্তি টি স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে উপড়ে নিয়ে যান।ওই আবক্ষ মূর্তিটি এস ডি ও কোথায় রেখেছেন আজ পর্যন্ত স্মারক সমিতির সভাপতি, সচিব ও সদস্যরা জানেনা। সেই সময় রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রেমী সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ হয়, শহীদ ক্ষুদিরাম বোস স্মারক সমিতি, লোক সাংস্কৃতিক মঞ্চ, অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটি, ব্রেক থ্রো সায়েন্স সোসাইটির পক্ষ থেকে আন্দোলন হয়। তৎকালীন রাজ্য সরকার ভোট ব্যাঙ্ক এর রাজনীতি করে বিষয়টি চেপে যায়। সেই সময় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস ও রাজ্যপাল দ্রৌপদী কে আবেদন দিয়ে মূর্তিটি পুন প্রতিষ্ঠা করার দাবি করে। রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ না নিলে সমিতি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সেকশন আধিকারিক রাজীব রঞ্জন কুশবা ৫/৯/২০১৯ রাজ্যের চিফ সেক্রেটারি কে পত্র দিয়ে বিষয়টির যথা যোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদেশ দেন। চিফ সেক্রেটারি বিষয় টি হিম ঘরে পাঠিয়ে দেয়।বর্তমান জে এম এম সরকারের নগর উন্নয়ন ও আবাস বিভাগের এডিশনাল সেক্রেটারি চন্দন কুমার ২৯/০৬/২০২০ সারায়কেলা-খরশোয়ার ডেপুটি কমিশন কে চিঠি দিয়ে বিষয় টির তদন্ত করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। আশা করা হয়েছিল এবার বলিদান দিবস কাণ্ডরা চকে হবে। aস্মারক সমিতির সেক্রেটারি আশু দেব মাহাতো জানিয়েছেন এবার ১১ আগস্ট সকালে পুলিশ বাহিনী নামিয়ে এলাকায়১৪৪ জারি করার কথা বলেছে। স্থানীয় আধিকারিক ওই চক টিকে বিবাদিত বলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা দিতে চাইছে।


প্রতিবেদক - গৌতম চট্টোপাধ্যায়, দুমকা ।

 বিহার বাঙালি সমিতি পূর্ণিয়া শাখার নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজকের এই গুরত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যদের আন...